ফেনীতে ১৮ দলের ৩৬ ঘন্টার হরতালে মাঠে নেই জামায়াত

সারাদেশে ১৮ দলের ডাকা টানা ৩৬ ঘন্টার হরতাল চলাকালে ফেনীতে মাঠে নামেনি জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগি সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার রাজপথে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছিল সক্রিয়। একইভাবে জামায়াতের মত আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন মাঠে নামেনি।
সংশ্লিষ্ট ও দলীয় সূত্র জানায়, ৩৬ ঘন্টার হরতাল শুরুর দিনে গতকাল বেলা ১১ টার দিকে দফায় দফায় মিছিল করেছে বিএনপির সহযোগি সংগঠন জাসাস ও স্বেচ্ছাসেবক দল। জাসাসের জেলা আহবায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব এম হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান জুয়েলের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলগুলো একাধিকবার ট্রাংক রোড সহ প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে। তবে হরতালের সমর্থনে মাঠে দেখা যায়নি জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের। হরতালের আগের দিন সন্ধ্যায় শহরের জহিরিয়া মসজিদ ও ফেনী বড় জামে মসজিদ থেকে লোক দেখানো ১০-১৫ জনের ঝটিকা মিছিল করলেও মঙ্গলবার দিনভর তারা মাঠে না নামায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। একইভাবে হরতালের বিপক্ষে মাঠে নামেনি আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন।
একটি সূত্র জানায়, জামায়াত ফেনী আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে মাঠে নামেনি। ফেনী আওয়ামীলীগও মাঠে না নামায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।
অপর একটি সূত্র জানায়, সারাদেশে ১৮ দল চাঙ্গা হলেও ফেনীতে বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব দৃশ্যমান। জামায়াত-শিবির একক হরতালে শহরের বেশ কিছু স্পটে পিকেটিং হলেও আগের মত জোটের কর্মসূচীতে গতকালও জামায়াত নেতাদের দেখা না মেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অথচ সর্বশেষ ১১ এপ্রিল শুধুমাত্র জামায়াতের সহযোগি সংগঠন শিবিরের ডাকা হরতালে তাদের শক্ত প্রতিরোধের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পিছু হটে। কিন্তু জোটগত কর্মসূচীতে তারা আওয়ামীলীগের সিন্ডিকেট নেতাদের ইশারায় মাঠে নামে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা বিএনপি নেতা জানান, মামলা-হামলা থেকে রেহাই পেতে ফেনীতে সিন্ডিকেট নেতাদের সাথে জামায়াত সখ্য করে চলে। তাই নিজেদের কর্মসূচীতেও তাদের অনেক নেতাকে দেখা যায় না। একইভাবে জামায়াতের ইশারায় ফেনী আওয়ামীলীগও কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করেনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা জামায়াতের এক শীর্ষ নেতার কাছে হরতাল কর্মসূচী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ‘ঘুম’ কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। এর বাইরে তিনি কিছু বলতে রাজী হননি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।