কক্সবাজারের উখিয়ায় পানীয় জলের তীব্র সংকট

উখিয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শত শত অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। নলকুপ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সরবরাহ না হওয়ায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্নস্থানে বহু নলকূপ অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়নের হাতিমোড়া গ্রামের কৃষক গফুর সওদাগর জানান, মাত্র ৩/৪ বছরের ব্যবধানে তাঁর গ্রামে পানির স্তর ২০/২৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। ওই সময় ১ একর জমিতে সেচ দিতে এক থেকে সোয়া ঘন্টা সময় লাগলেও এখন পাঁচ থেকে সাত ঘন্টা সময় লাগছে। তার উপর বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যা চাষের জন্য মারাত্মক হুমকি।
জালিয়াপালং ইউনিয়নের মো:শফির বিল গ্রামের পল্ল¬ী চিকিৎসক নূরুল আমিন জানান, অগভীর নলক’পে পানি না উঠার কারণে এলাকায় তীব্র বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকেই খোলা পাত-পের পানি পান করে নানা রোগ-শোগে ভূগছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকের সেচ ব্যয় বেড়েছে। জমিতে সেচ দিতে বেশি সময় লাগায় অতিরিক্ত ডিজেল খরচ হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কৃষকলীগের উপজেলা মহাসচিব ও সদর রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশেও তার প্রভাব পড়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বহু নমুনা এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সৃষ্টি কর্তার উপর সবকিছু ছেড়ে দিতে হবে। তিনিই নিয়ন্ত্রণ কর্তা। তাছাড়া কৃষি উপকরণের সার, ডিজেল সহ ইত্যাদি সরঞ্জামাদি হাতের নাগালে থাকাতে এবার বোরো আবাদ হয়েছে প্রচুর। নলক’পে পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
উখিয়া কৃষি কর্মকর্তা ইউছুপ ভুঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎের লোডশেডিং কৃষকদের মারাতœক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রকৃতিগত কারণে শুস্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যায় এ কারণেই বর্ষা মৌসুমের চেয়ে অন্যান্য সময় চাষাবাদ কম হয়। নলক’পে পর্যাপ্ত পানি না আসলে ভোগান্তিতো হবেই।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।