রায়পুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যোৎসাহী সদস্য নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য নিয়োগে  দলীয় করণের অভিযোগ ওঠেছে। এ কমিটিতে স্থান পেয়ে কয়েকটি বিদ্যালয়ে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে মারমুখী আচরণ এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। এতে করে এ পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক ও শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যোৎসাহী সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন চলছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন বিদ্যোৎসাহী পুরুষ ও একজন বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্যের নাম নির্ধারণ করে দিবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে তার অনুসারী রায়পুর পৌর বিএনপি’র আহবায়ক মেয়র এবিএম জিলানী দলীয় করণের মাধ্যমে অশিতি, অযোগ্য, ব্যাক্তিদের পরিচালনা পরিষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এছাড়াও এ নিয়োগের তালিকায় কাঁচামাল, মুদী ও ফল ব্যবসয়ী এমনকি চা দোকানদারও রয়েছেন। কোনো বিদ্যালয়ে সাংসদ একাধিক ব্যাক্তির নাম পাঠিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। একাধিক বিদ্যালয়ে তার প্রতিনিধি পৌর মেয়র মোটা অংকের টাকা ও উপঢৌকনের বিনিময়ে বিএনপি ও আ’লীগের নেতা পরিচয়ে এবং তাদের স্ত্রীর নামও কমিটিতে স্থান করে দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ১১৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ বিদ্যালয়গুলোর একটি ম্যানেজিং কমিটি থাকে। যা ১১ জন সদস্য বিদ্যালয়টি পরিচালনা করবেন। যার মধ্যে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকবেন প্রধান শিক, ৪ জন অভিভাবক সদস্য, পার্শ্ববর্তী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক প্রতিনিধি ২ জন, দাতা সদস্য ১ জন, ওয়ার্ড মেম্বার ১ জন, বিদ্যোৎসাহী সদস্য ২ জন। ৪ অভিভাবক সদস্যের মধ্যে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। নিয়ম রয়েছে বিদ্যোৎসাহী সদস্য (পুরুষ ও মহিলা) পদে মনোনীত প্রার্থীর তালিকা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিকের নিকট পাঠাবেন। তিনি সভাপতি ও সহ সভাপতি হিসেবে দুইজনকে নির্বাচিত করবেন। কিন্তু নির্বাচন না দিয়ে সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে অযোগ্য ও অশিতি ব্যক্তিদের দলীয় বিবেচনায় নির্বাচিত করে স্কুলের সুনাম ুন্ন করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক ােভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া কোনো যাচাই বাছাই না করে অযোগ্য ও অশিতি ব্যাক্তিদের কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচন করছেন। কিন্তু তাদের নির্দেশ মতো স্কুল চালানো আমাদের পে সম্ভব হবেনা। তিনি অযোগ্য ব্যক্তিদের না দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের কমিটিতে নিয়োগ দেয়ার জন্য  অনুরোধ জানাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যোৎসাহী সদস্য বলেন, সংসদ সদস্যের অনুসারি মেয়র এবিএম জিলানীকে মোটা অংকের টাকা বা মূল্যবান উপহার সামগ্রী দিয়ে কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য তদবির করছে। আমরা বিদ্যালয়ের সদস্য হয়েছি সম্মানের জন্য। কিন্তু মেয়র যাচাইবাছাই না করেই অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করছেন। যার ফলে মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ে এ কমিটি সদস্য নিয়ে মারমুখী আচরণ ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। যার ফলে কমিটির সদস্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
রায়পুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে দুই জন ব্যক্তিতে স্থানীয় সংসদ মনোনীত করে দেন। আমরা যে তালিকা হাতে পেয়েছি সে অনুযায়ী নির্বাচিত ঘোষণা করেছি। এ কমিটিকে কেন্দ্র করে কিছু কিছু বিদ্যালয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা তাকেই নিতে বাধ্য।
রায়পুর পৌর বিএনপির আহবায়ক ও পৌর মেয়র এবিএম জিলানী বলেন, আওয়ামীলীগ প্রতিটি বিদ্যালয়ে তাদের দলীয় নেতাদের কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অনুরোধে যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই কমিটির সদস্যদের নির্বাচন করা হচ্ছে। টাকা বা কোনো উপঢৌকন নিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করার বিষয়টি মিথ্যা ও অপপ্রচার বলে দাবি করেন। যারা কমিটিতে স্থান পায়নি তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর- ২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, আমি ঢাকায় অবস্থান করায় মেয়র এবিএম জিলানীকে বলা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়ার জন্য। যিনি সুবিধা পাননি তিনি বিএনপি তথা আমার ও মেয়রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাবে এটাই স্বাভাবিক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।