কাল বৈশাখীর তান্ডবে মহেশখালীতে ১২ হাজার লবন চাষী পরিবারের মাথায় হাত

২০০৯-১০ ইং মৌসুমে লবন মাঠ জরীপ অনুযায়ী লবন উৎপাদনে ব্যবহৃত জমির পরিমাণ মহেশখালীতে ২০৩২৩ একর। উৎপাদিত লবনের পরিমান মহেশখালীতে ১২,৩৯৬ কিন্তু হঠাৎ কাল বৈশাখীর হুংকারে প্রায় ১২ হাজার লবন চাষী পরিবারের মাতায় হাত দিতে হয়েছে নিভে গেছে মন ভরা আশার আলো। দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর একটি অন্যতম অর্থকরী ফসলের নাম লবন। প্রকৃতির অপূর্ব লীলা পৃথিবীর অন্যন্য দেশের সমুুদ্রের লোনা পানির চেয়ে এ অঞ্চলের লোনা পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশী তাই ককসবাজার জেলায় প্রাকৃতিক উপায়ে লবন উৎপাদন সহজ এবং দেশের লবন উৎপাদনের প্রধান জেলা ও বটে। ককসবাজারে উৎপাদিত লবন সারা দেশের চাহিদা মেটাতে সম জেলার সিংহভাগ লবন উৎপাদিত হয় মহেশখালীতে। গত বৎসর প্রায় ৫.০০ ল টন উদ্বত্ত লবন উৎপাদিত হয়। কিন্তু এ বছর লবন চাষের শেষের দিকে এসে হঠাৎ কাল বৈশাখী শুরু হওয়ায় লবন চাষীরা চরম বিপাকে পড়েছে ।

সরকার বিসিক এর মাধ্যমে লবন শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প নামে ১টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যার উদ্দেশ্য হচেছ উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীদের উন্নত মানের সাদা লবন উৎপাদনে কারিগরী সহয়তা দেওয়া যাতে চাষীরা লবনের ন্যায্য মূল্য পায় এবং চাহিদা মত লবণ উৎপাদন হলে বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করতে না হয়। লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফসল মনুষ্য খাদ্য, পশু ও মৎস্য খাদ্য এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহার হয় মহেশখালীতে প্রায় ১২ হাজার পরিবার মানুষ প্রত্য ও পরোভাবে লবণ শিল্পের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে সারা দেশের একাংশের জনগনের লবণের চাহিদা মহেশখালী থেকে মেটানো হয়। তাই লবণ চাষীদের উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরনের জন্য মহেশখালীতে একটি লবন বোর্ড গঠন করা মহেশখালী বাসির দীর্ঘ দিনের দাবী। সাধারণত অগ্রহায়ন মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের মৌসুম। এ সময় ধনী দরিদ্র প্রত্যেকের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ল্য করা যায় এবং প্রত্যেকের মুখে মুখে প্রাণ খোলা হাসি ফুুটে ওঠে। কিন্তু বিগত দু-তিন বৎসর লবণের বাম্পার ফলন হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম অত্যাধিক হ্রাস পেয়েছে কিন্তু এবারে লবনের চড়া মুল্য পাওয়ায় চাষীদের ঘরে ঘরে খুশির বন্যা বইছিল তৎমধ্যে হঠাৎ করে কাল বৈশাখী শুরু হয়ে যাওয়ায় লবন চরম উৎকন্ঠায় আছে। চলতি মৌসুমে লবণ চাষে ব্যবহৃত জমির পরিমান গত বৎসরের চেয়ে অধিক বেড়েই চলেছে। মৌসুম সম্পন্ন করতে প্রতি একরে খরচ পড়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। কিস্তু চলতি মৌসমে লবণ উৎপাদন হয়েছে প্রতি একরে প্রায় ৮০০ মনের চেয়ে বেশী। তাই মন প্রতি চলতি মৌসুমে ১৮০টাকার চেয়ে লবণের দাম হলে কৃষকেরা ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটে ছিল কিন্তু শেষের দিকে এসে একটু বিপাকে পড়তে হয়েছে। একাধিক লবণ চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে অন্যন্য বছরের চাইতে এ বছরে লবনের বাম্পার ফলন হলে ও শেষের দিকে এসে হঠাৎ কাল বৈশাখী শুরু হওয়ায় লবন চাষীদের একটু বিপাকে পড়তে হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।