উখিয়া ও টেকনাফে শতাধিক ঝুকিপূর্ণ ভবন

টেকনাফ উপজেলায় সরকারী-বেসরকারী ভবন মাদ্রাসা ও বিভিন্ন মার্কেট এবং ব্যাক্তিগত অর্ধশতাধিক ভবন চরম ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকার কর্তৃক এসব ঝুকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবন গুলো তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা না নিলে যে কোন মূহুর্তে ধ্বসে বড় ধরনের দূর্ঘটনা হবে বলে আশংকা রয়েছে। ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারে ভবন ধ্বসে স্মরণ কালের সব চেয়ে বড় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে । এমন সময় সরকার যদি ঝুকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবন গুলো তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয় তবে হাজার হাজার মানুষ দূর্ঘটনা মুক্ত হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল । গতকাল ২৭ এপ্রিল টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন স্থান সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, জেলা পরিষদের মালিকানাধিন টেকনাফ পৌরসভার অস্থায়ী কার্য্যালয়, টেকনাফ আল-জামিয়া আল ইসলামীয়া মাদ্রাসা, সোনালী ব্যাংকের সামনে হোছন আহাম্মদ এর ২য় তলা মার্কেট, অগ্রনী ব্যংকের উত্তর পূর্ব পার্শে আমির হামজা মার্কেট, উপরের বাজারে আবদুল হামিদ মার্কেট, বাসষ্টেশনে হোটেল নাফ ইন্টারন্যাশনাল, টেকনাফ বোডিং, টেকনাফ থানার ২য় তলার পুরোনো ভবনসহ অসংখ্য মার্কেট ও ভবন অতিরিক্ত পুরোনো হওয়াতে বড় বড় ফাটলের সুষ্টি হয়েছে । অনেকে পুরোনো মার্কেট ও ভবন চুনকালি দিয়ে সাজিয়েছে । এসব মার্কেট গুলোর মধ্যে কিছু কিছু মার্কেট অতিরিক্ত ঝুকিপূর্ণ । আবার কিছু কিছু বাহির থেকে ভাল দেখা গেলেও ভিতরের অবস্থা একেবারে কাহিল।
উখিয়ায় সরকারী অফিস, এনজি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মার্কেট বা বাড়ী সহ অর্ধ-শতাধিক ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন দুর্যোগ ও ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন ধ্বসে বা বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। সচেতন মহল অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি সহ উচ্ছেদ করে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে শত শত লোকের প্রাণহানির ঘটনার পর উখিয়াও ঝুকিঁপূর্ণ ভবনে বসবাসরত মানুষদের মনে চরম আতংক বিরাজ করছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উখিয়া উপজেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, উখিয়া হাসপাতাল, উখিয়া পরিবার পরিকল্পনা অফিস, উখিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ভবন, উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, উখিয়া সালাম বিল্ডিং, জলিল প্লাজা, মরিচ্যার গরু বাজার সংলগ্ন হাজী শুক্কুরের বাড়ী সহ অর্ধশতাধিক সরকারী, বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এতোই যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ যেকোন সময় ভবন ধ্বসে পড়তে পারে। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ ৩য় তলা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা জানান, উখিয়া সালাম বিল্ডিংটি দেখলেই মনে হয় এমনিতেই ধ্বসে যাবে। কারণ, অপরিকল্পিত ও নঁকশা বিহীন ভাবে এ ভবনটি নির্মান করা হয়েছে। এছাড়াও বহু পুরাতন ভবন হওয়ায় দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সুশীল সমাজের মতে সাভার ট্রাজেডির মত যাতে উখিয়ায় ভবন ধ্বসে প্রাণহানির ঘটনা না হয় সেজন্য প্রশাসনকে ওইসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো উচ্ছেদ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী উচিত হয়ে পড়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।