সন্তানের জন্য অঝোরে কাঁদছেন বাবা

জীবিত না পেলেও ছেলের লাশটি ফেরত পাওয়ার আশায় অবিরাম কেঁদে চলেছেন সাভার ট্রাজেডিতে নিখোঁজ বোরহানের অসুস্থ বাবা রেলওয়ের(অব.) কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। বাবা মফিজুর রহমানের জন্য চিকিৎসার টাকা নিয়ে বাড়ি আসার কথা ছিল বোরহান উদ্দিনের(২৫)। রানা প্লাজা ধসে পড়ার আগের দিন রাতে বড় বোন দেলোয়ারা আক্তারের সঙ্গে শেষ কথা হয় বোরহান উদ্দিনের। সেদিন বাবার অসুস্থতার কথা জানালে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, “মাস শেষে বেতন পেলে বাবার চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়ে আসবো।”
কিন্তু এরপর থেকে বোরহান উদ্দিনের খোঁজ পাচ্ছেন না তার পরিবার। রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর দিন পরিবারের লোকজন তার খোঁজে সাভারে যান। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি তারা।
সোমবার দুপুরে ফেনী প্রেসক্লাবে এসে নিখোঁজ ভাইয়ের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদতে থাকেন দেলোয়ারা বেগম। তার ভাইয়ের কোনো খবর সাংবাদিকরা জানেন কিনা জানতে চান।
বোরহান উদ্দিন তাদের পরিবারের চার ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে চতুর্থ। এক মাস আগে চাকরি নেন রানা প্লাজার তৃতীয় তলার গার্মেন্টে। এর আগে ছয় বছর চাকরি করেন চট্টগ্রামের অন্য একটি গার্মেন্টে।
তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা হলেও তার বাবা পরিবার নিয়ে ১০ বছর ধরে ফেনী শহরের একাডেমী এলাকায় বাসাভাড়া করে থাকেন।
আট বছর আগে বোরহান উদ্দিনের মা ফাতেমা বেগম মারা যান। অভাবের সংসারে হাল ধরার চেষ্টা করেন বোরহান উদ্দিন। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পাগল প্রায় পরিবারের লোকজন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।