কুমিল্লার সদর দক্ষিনে কাজের মেয়েকে অবৈধ গর্ভপাতের পর হত্যা

কুমিল্লার সদর দক্ষিনে কাজের মেয়েকে অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর পর চুরির অপবাদ দিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই হতভাগী কিশোরী নাম আছমা আক্তার (১৪)। সে উপজেলার কনকশ্রী গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে।
জানা যায়,ছোট বেলায় আছমার মা মারা যাওয়ার পর বাবা ২য় বিয়ে করায় সৎ মায়ের সংসারে অভাব অনটন সহ্য করতে না পেরে একই গ্রামের আবদুল আজিজের স্ত্রী হাজেরা বেগম ওরফে খালাম্মা কবিরাজের বাসায় মাসিক ৫’শ টাকা বেতনে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয় আছমা। খালাম্মা কবিরাজের বড় ছেলে মিজানুর রহমান (৪০) বিভিন্ন প্রলোভনে ওই মেয়ের সাথে অনৈতিক ভাবে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে আছমা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ৫ মাস পর বিষয়টি জানাজানি হলে ওই মেয়েকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয় লম্পট মিজানের পরিবার। এরপর আছমা অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি অন্যান্যদেরকে জানালে লম্পট মিজান কৌশলে আছমাকে বেতন বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবার  তাকে বাসায় নিয়ে আসে। মিজান তার বাড়ীতে এনে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় সময়ে আছমাকে বেদম প্রহার করতো। অন্তসত্ত্বার ঘটনাটি  পুনরায় জানাজানি হলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী লম্পট মিজান ৬ হাজার টাকা চুরি করার অপবাদ দিয়ে বেদম মারধর করে আছমার পিতা জাকির হোসেনকে ডেকে এনে টাকা চুরির বিষয়টি জানিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে আছমার হাত পা বেঁধে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আছমার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর লম্পট মিজানের স্ত্রী কাজল বেগম, ছোট ভাই মাছূম বিল্লাহ ও তার মা হাজেরা বেগম ওরফে খালাম্মা আছমাকে ওড়না পেচিয়ে ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করে। আছমার বাবা জাকির হোসেন মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে মিজানের বাড়ী আসলে পরিবারের লোকজন তাকে জানায়, তাঁর মেয়ে আছমা টাকা চুরির করায় তাকে বকাঝকা করার কারনে সে আত্মহত্যা করেছে ।
এদিকে আছমা হত্যার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। অপরদিকে আছমার পিতা জানান, ঘটনা ধামাচাপা দিতে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মিজান ও তার পরিবারের কাছ থেকে  ৮ লক্ষ টাকা নিয়ে কিছু টাকা থানা পুলিশকে দিয়ে বাকী টাকা ওই প্রভাবশালীরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। আছমার পিতা আরো জানান, তার মেয়েকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেচিয়ে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মামলা না করার স্বার্থে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সাইদুল ইসলাম তিতু, হাজী বশির আহমদ, আবদুস ছাত্তার, তোফায়েল আহমদ ও লিটনের নেতৃত্বে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা ধামাচাপা দেয়া হয়।
এলাকাবাসী জানায়, হাজেরা বেগম ওরফে খালাম্মা পানি পড়ার নামে বিভিন্ন রোগী থেকে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। প্রতিদিন চিকিৎসার নামে শত শত মানুষ ভুয়া কবিরাজ খালাম্মার নিকট প্রতারিত হচ্ছে। জনশ্রুতি রয়েছে ওই খালাম্মার ভূয়া পানি পড়া ব্যবসা চালানোর জন্য প্রশাসনের লোকদের মাসোহারা দিয়ে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই খালাম্মার পানি পড়ার খবর একাধিক সংবাদপত্রে ছাপার পরও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকায় সাধারন মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওই খালাম্মার অপচিকিৎসায় অনেক রোগী মারা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আছমা হত্যার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন  রহস্যজনক ভাবে নীরব থাকায় জনমনে অসন্তোস দেখা দিয়েছে। আছমা হত্যা বিষয়ে তার বোন গার্মেন্টস কর্মী নাজমা আক্তার আইনী সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার নিকট আবেদন করেছেন। এদিকে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, আছমার বাবা জাকির হোসেন আছমা হত্যাকারী মিজান ও তার পরিবারের কাছ থেকে নিদিষ্ট অংকের অর্থের বিনিময় মেয়ে হত্যার বিষয়টি এখন চেপে যাচ্ছেন। আছমা হত্যার বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ও তার ভাই মাসুম বিল্লাহ জানান, আছমা আত্মহত্যা করেছে। মামলা না করার জন্য মেয়ের বাবা ও থানা পুলিশের সাথে সমঝোতা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুশ্চি তদন্ত ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা শামছ উদ্দিন জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে আছমা আত্মহত্যা করেছে না কি তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা মামলা ধামাচাপা দিতে ৮ লক্ষ টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।