কাল বৈশাখী ঝড়: লক্ষ্মীপুরে ফসল,গাছপালা,ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি,বিদ্যুৎ নেই ২ দিন

জেলাসহ ৫টি উপজেলায় শনিবার (৪ মে) কাল বৈশাখী ঝড়ে শত শত হেক্টর ফসলি জমির বোরো ধান, আউশের বীজতলা ও সয়াবিনসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ঝড়ের আঘাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বৈদ্যুতিক তারে গাছ পড়ে জেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এদিকে গাছপালা ও ঘরবাড়িও ক্ষতিসাধন হয়েছে।
দু’দিন সরকারি ছুটি ও ঝড়ের কারণে সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।
ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা যোগাযোগ করছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলগর ও রামগতি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি, আউশ ফসল ও বিশেষ করে সয়াবিনচাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। প্রচ- ঝড় ও বৃষ্টির ফলে অনেক ইটভাটার কাঁচা ইটের ক্ষতি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করতে পারেনি।
এদিকে  রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ও ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের কানিবগারচর, চরকাছিয়া, চরজালিয়া, চরইন্দুরিয়া, চরঘাসিয়া, চরপাঙ্গাসিয়া এবং ১নং উত্তর ও ২নং দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের উদমারা, ঝাউডগী, হায়দরগঞ্জ ও ৭নং বামনী ইউনিয়নের ভূঁইয়ার হাট, খাঁয়ের হাট, উত্তর চরবামনী, ৬নং কেরোয়া ইউনিয়নের লামছরী ও সুনামগঞ্জ এলাকায় কয়েকশ হেক্টর জমির বোরো ধান, আউশ ধানের বীজতলা ও সয়াবিনের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানের বেড়িরমাথা এলাকার দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি ও গাছপালারও ক্ষতি হয়।
চরকাছিয়া গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও জয়নাল বেপারী জানান, তারা তাদের বর্গাকৃত জমিতে অনেক কষ্ট করে সয়াবিন ও আউশ ধানের বীজ রোপন করেছিলেন। এ ঝড়ের কারণে সয়াবিন তোলার জন্য লোকজনও ঠিক করে রেখেছেন। কিন্তু তাদের সব আশা ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। এ ক্ষতিপূরণ চেয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনও কাছে অনুরোধ করেছেন।
রায়পুর পল¬ী বিদ্যুতের ডিজিএম জাকির হোসেন বলেন, গত দুইদিন ধরে প্রচন্ড ঝড়ে গাছপালা ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেক জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। সেগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, প্রতি বছর ঝড়-তুফানে এ অঞ্চলের কৃষকরা বেশি ক্ষতিসাধনের শিকার হয়। তাদের ফসল বিশেষ করে সয়াবিন, বোরো ধান ও আউশ ধানের ক্ষতি হয়। এসব ফসল ঘরে তুলতে না পারায় তাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করতে দেখা গেছে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য জেলা প্রশাসকের সাথে পরামর্শ করা হচ্ছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসন একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিনচাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা প্রশাসনদের বলা হয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।