রায়পুরে ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎলাইন বিছিন্ন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় আকাশে মেঘের আনাগোনা আর জোরেশোরে একটু বাতাস থাকলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আবার কিছুক্ষণ পরে আসলেও তাও কিছু সময়ের জন্য, তার উপর দেখা যায় লো-ভোল্টেজ। এদিকে আর ঝড় হলে তিন-চার দিন বিদ্যুৎ থাকে না, পাশাপাশি রয়েছে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ ঘণ্টার লোডশেডিং। আবার যায় আবার আসে এভাবে চলে রাত ১০ থেকে ১২টা পর্যন্ত। ফলে কম্পিউটার ও ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা সম্ভব হয় না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়া লেখাসহ সাধারণ মানুষের কাজ-কর্মে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। এক মাস ধরে এ অবস্থা চলছে।
এছাড়াও বৈশাখী ঝড়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বৈদ্যুতিক তারে গাছ পড়ে জেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। ফলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এরকম আচরণে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী।
পল¬ী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, রায়পুরে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ লাইন সুপারি বাগান ও গাছপালার ভেতর দিয়ে নির্মিত। এ জন্য ঝড় হাওয়া বা বৃষ্টির আভাস পাওয়া গেলে নিরাপত্তার কারণেই অগ্রিম লাইন বন্ধ করতে হয়। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, পল¬ী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করেছিল, যার মাসুল গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির রায়পুর উপজেলার আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে ৫৬০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন আছে। এর আওতায় গ্রাহকসংখ্যা ২৬ হাজার ৪০০। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপজেলায় এপ্রিল মাসে এ পর্যন্ত ১৯ বার বিদ্যুৎসংযোগ নষ্ট হয়।
রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মো. মোরুক হোসেন। সে জানায়, আকাশে মেঘ জমলে অথবা ঝড় হাওয়া বা বৃষ্টির আভাস পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ থাকে না। সঙ্গে প্রতিদিনের লোডশেডিং তো আছেই। বিদ্যুতের জন্য রাতে ঠিকমতো পড়ালেখা করা যায় না।
প্রধান সড়কের ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন জানান, লোডশেডিংসহ নানা অজুহাতে প্রায়ই দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এ কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সারাদিন বিভিন্ন স্থান থেকে কাজ-কর্ম করে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে মানুষ রাতে একটু ঘুমাতে যাবে এমন সময় আবার লোডশেডিং।
রায়পুর পল¬ী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা কালবৈশাখীর কারণে পল¬ীবিদ্যুতের বিভিন্ন স্থানে লাইন ছিঁড়ে যাওয়ার উপজেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। রবিবার সকাল থেকেই লাইন মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি ঝড় বৃষ্টি না থাকলে আজ সন্ধ্যাদিকে মেরামতের কাজ শেষে হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ঝোড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির আভাস পাওয়া গেলে নিরাপত্তার কারণেই অগ্রিম লাইন বন্ধ করা হয়। তা ছাড়া চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগের ওপরে গাছ ভেঙে পড়ায় এ মাসে কয়েকবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। লাইন নষ্ট হলে ঠিক করতে সময় লেগে যায়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।