রায়পুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টায় আটক দুই বখাটে মুচলেকায় মুক্তি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের নর্দমা নামক স্থানে রোববার (৫ মে) রাতে গৃহবধূকে (১৯) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আটক দুই যুবককে মুচলেকা দিয়ে কাউন্সিলর ও আ.লীগ নেতাসহ কয়েকজন তাদেরকে ছেড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মীমাংসা না হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩ মে রাত ১২টায় শহরের নর্দমা নামক এলাকায় গৃহবধূকে তার শ্বশুর বাড়িতে ঢোকে খোরশেদ আলমের ছেলে পারভেজ ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় সে চিৎকার দিলে অন্য তিন সহযোগিরাও পালিয়ে যায়। বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে পারভেজকে আটক করলেও অদৃশ্যকারণে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
রোববার বিকেলে ওই গৃহবধূ তার মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাদি হয়ে বখাটে পারভেজ (২৫) ও বিল্লাল (৩৫)সহ তিনজনকে আসামী করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। ওই গৃহবধূ স্থানীয় মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে পারভেজ ও বিল্লালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাত ১২টায় অনেক দেনদরবার করে স্থানীয় কাউন্সিলর মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া ও আ.লীগ নেতা বাবুলসহ কয়েকজন সোমবার সকাল ১০টায় ওই গৃহবধূর বাড়িতে মীমাংসার কথা বলে থানায় মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু আবারও তারিখ পেছানো হয়েছে।
পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ওই গৃহবধূর প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে পারভেজের সাথে দীর্ঘদিন অবৈধ সম্পর্ক চলে আসছিল। শনিবার রাতে তাদেরকে অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য বিল্লালসহ দুই ব্যক্তি দেখে ফেলে। পরে ওই গৃহবধূ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করার মিথ্যা একটি অভিযোগ দেন থানায়। পুলিশ কাউকে কিছু না বলে তদন্ত না করেই নিরপরাধ বিল্লালকে ধরে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় উভয় পরিবারের লোকদের সাথে কথা বলে মীমাংসার লক্ষ্যে তাদেরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়েছে।
রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার জানান, গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে ফারভেজ ও বিল্লালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর ও আ.লীগ নেতাসহ উভয় পরিবারের লোকদের অনুরোধে মীমাংসার লক্ষ্যে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে গৃহবধূ অসন্তষ্ট থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।