কক্সবাজারে পর্যটক শূণ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম ৩ শতাধিক হোটেল-মোটেল

বিশ্বখ্যাত সৈকত নগরী পর্যটনের লীলাভুমি কক্সবাজারে এখন পর্যটন শূণ্য। দেশের রাজনৈতিক অস্থিশীল পরিস্থিতি ও অবরোধ হরতালের কারনে ধবংসের পথে পর্যটন শিল্প। গত বছর এই সৈকত নগরীতে দেশি বিদেশী পর্যটকদের সমাগম থাকলেও এ বছর তেমন বেশি পর্যটক না আসায় হোাটেল মোটেল জোন বন্ধ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিশীল থাকার কারনে কক্সবাজারে মত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট তথা পর্যটন শিল্পসহ বস্ত্র শিল্প, মৎস্য শিল্প, লবণ শিল্প এখন ধবংসের পথে। অন্যদিকে পথে বসেছে ওই সব শিল্পের ব্যবসীয়রা। সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি রাজস্ব ও বৈদেশিক পর্যটকদের রেমিটেন্স। হোটেল ব্যবসায়ী সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ হাউজ বন্ধ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। লোকসানের কারণে হেটেল মোটেল এলাকায় কর্মচারী ছাঁটাই করে দিচ্ছে,বেশিরভাগ হোটেল মালিকেরা। আগামী ডিসেম্বরের আগে এ পরিস্থিতি উন্নতি না হলে কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প বিলুপ্তের পথে যাবে বলে ধারনা করছে  ব্যবসায়ীরা। এদিকে কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সোলতান জানান, গত দুই মাসে পর্যটকের অভাবে ১০ হাজার কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যটক না থাকায় শতাধিক টুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার কর্মী, ৮ শতাধিক রেস্তোরাঁর ৫ হাজার কর্মচারী, শুঁটকি মহাল ও লবণ শিল্প এবং শতাধিক বিপণিকেন্দ্রের ১০ হাজার কর্মচারীসহ ২৬ হাজার শ্রমজীবী মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেক হোটেল মালিক বিনা বেতনে কর্মচারীদের ছুটিতে যেতে বাধ্য করছে। হরতাল আর রাজনৈতিক অস্থিশীল পরিস্থিতি পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পর্যটক না থাকায় ইতিমধ্যে কক্সবাজার শহরের দুই শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে গেছে। আরও ৩শ হোটেল মোটেল বন্ধ হওয়ার পথে। হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখানে হোটেল-মোটেল তৈরি করে অনেকেই ব্যাংকঋণ শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যাংক ঋণের দায়বদ্ধতা বহন করতে না পেরে অনেক হোটেল মালিকেরা গা ডাকা দিয়েছে। হোটেলের বিদ্যুৎ,পানির বিল ও কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে মালিকেরা।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।