কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ফারজানা ছাত্রীনিবাসে চলছে সীমাহীন অনিয়ম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের বিপরীত দিকে এই ফারজানা ছাত্রীনিবাসটির অবস্থান। এই ছাত্রীনিবাসটিতে থাকেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় অর্ধশত ছাত্রী। তিন তলাবিশিষ্ট এই ছাত্রীনিবাসের মালিক ও পরিচালক শাহ আলম মৈশান এর বিরুদ্ধে উঠেছে অনেক অভিযোগ। শাহ আলম মৈশান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক হওয়ার সুবাদে ক্যাফেটেরিয়ার প্রতিদিনের খাবারের অবশিষ্ট অংশ তার পরিচালিত এই ফারজানা ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীদের খেতে দেন বলে সেখানে অবস্থানরত ছাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাবারের মান খুবই খারাপ বলে ছাত্রীনিবাসের অনেকে বাহিরে খাবারের ব্যাবস্থা করেন। তবে মালিক ও পরিচালক শাহ আলম মৈশান এতে বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে বাধা দেন বলে আভিযোগ রয়েছে। তিন তলা এই ছাত্রী হোস্টেলটিতে চলছে ছয় তলা নির্মনের কাজ। এই হোস্টেল ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন শাহ আলম মৈশান, বাকি প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে ১৮০০০ হাজার টাকা করে ৪টি ফ্যাট থেকে তার আয় হয় ৭২০০০ টাকা। এখানে প্রতি সিটের ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০০ টাকা ও খাবারের জন্য নেওয়া হয় জন প্রতি ২৫০০ টাকা। বসবাসরত সব ছাত্রীদেরকে তিনি এখানে খাবার খেতে বাধ্য করেন। কেউ ১ মিল খেলেও তাকে পুরো মাসের খাবারের টাকা দিতে হয়, কোন মিল ব্যাবস্থ নেই এই ছাত্রী হোস্টেলটিতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রীনিবাসটিতে অবস্থানরত এক ছাত্রী জানান, “হোস্টেল পরিচালক খুবই বাজে খাবার দেন ও কোন অভিযোগ তিনি শুনতে চান না, একদম স্বেচ্ছাচারী মনোভাব দেখান।” এই ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠানটির নেই সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার কোন অনুমোদন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ফারজানা ছাত্রীনিবাসের মালিক ও পরিচালক শাহ আলম মৈশানের সাথে কথা বললে তিনি আভিযোগ অস্বীকার করেন। ছাত্রীনিবাসটির সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অনুমোন আছে কি না এমন  প্রশ্নে তিনি কোন সদুওর দিতে পারেন নি। তিনি বলেন, “ আমি ছাত্রীদের অভিবাকদের সাথে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সে আনুযায়ী কাজ করছি” কথার এক পর্যায়ে তিনি সংবাদিকদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। সেখানে অবস্থানরত ছাত্রীরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।