বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়ায় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানালো সাজু

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী সাজমিন আক্তার সাজু (১৪)। প্রবাসী বাবার অনুপস্থিতিতে নিজ মাতা অর্থ লোভে পড়ে প্রবাস ফেরত এক যুবকের সাথে তাকে বিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সংবাদ পেয়ে বিবাহের তারিখ সোমবার (১৩ মে) রাতে কয়েক সংবাদ কর্মী ইউএনওর মাধ্যমে বিয়েটি বন্ধ করে দেন। এতে কিশোরী মেয়েটি আনন্দে সংবাদকর্মী ও ইউএনওকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সাজুর বাড়ি সোনাপুর ইউনিয়নের চৈতাল্লা দিঘীরপাড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
এলাকাবাসী জানান, সোমবার রাত ১০টায় প্রবাসী মুরাদ হোসেনের স্ত্রী লাকি আক্তার তাদের কিশোরী কন্যা সাজুকে গোপনে চরমোহনা ইউনিয়নের বাবুরহাট এলাকার প্রবাসশালী তোফায়েলের প্রবাস ফেরত সবুজের (৩০) সাথে বিয়ের আয়োজন করে। এ সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সাজুর মাকে বাল্য বিয়েটি না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে বাধ্য হয়ে ঘটনাটি ইএনওকে জানায়। পরে ওই রাতেই ইউএনওকে সাজুর মাকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিয়ে সম্পর্কিত সকল আয়োজন বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
সাজমিন আক্তার সাজু সাংবাদিকদের ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, এ বিয়ে না করতে আমার মাকে অনেকবার বলেছিলাম। কিন্তু আমার মা কর্ণপাত করেননি। আমি লেখাপড়া করতে চাই। বিয়েটা হলে লেখাপড়া বন্ধসহ আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যেত। এখন আমি খুব আনন্দিত। সাংবাদিক ও ইউএনও স্যারকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, বাল্য বিয়ের ঘটনাটি সাংবাদিক ও এলাকাবাসী আমাকে অবহিত করে। তাৎক্ষনিক রাতেই মেয়ের মাকে বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দিলে তা বন্ধ হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।