কক্সবাজারে আশ্রয় শিবিরে শুরুতেই খাবার সংকট: ‘ভাত হঁত্তে দিবো ন যানি,পাইলে হাইয়ুম’

ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ ক্রমাগত ধেয়ে আসছে। ইতোমধ্যেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সর্বশেষ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছিল। রাত যতই বাড়ছে স্ব স্ব গৃহে অবস্থান নেওয়া জনসাধারণের উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মাত্রা চরম আকার ধারণ করছে। দুপুর ২টার পর থেকে প্রশাসন মাইকিং করে উপকূলীয় লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে সাইক্লোন শেল্টারে আসতে বললেও কক্সবাজারের শহরতলীর কোন্ কোন্ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ তা চিহ্নিত করে দেয়নি। ফলে শহরতলীর বাহারছড়া, টেকপাড়া, বার্মিজ মার্কেট, তারাবনিয়ারছড়া, খুরুস্কুল, আলীরজাহাল, লিংকরোড সহ আরোও বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। অনেকেই ধারণা করছে জলোচ্ছাসে যদি ১০ ফুট উঁচু হয়ে পানি ফুলে উঠে তাহলে তাদের নিজ নিজ আধাপাকা আশ্রয় স্থলগুলিও পানিতে প্লাবিত হবে। এর আগে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের সাথে ১০ ফুট উঁচু জলোচ্ছাসের পানি সমুদ্রউপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষ রাতের খাবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণের কথা থাকলেও রাত ১০ টা পর্যন্ত এ খাবার সেখানে পৌঁছনি। কিছু ব্যক্তি খাবার হোটেল থেকে এবং বাড়ি থেকে রান্না করা ভাত-তরকারি এনে খেলেও বেশির ভাগ মানুষ না খেয়ে আছেন। রাত ৯ টার দিকে কক্সবাজার শহরের পৌর প্রিপেটারী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন রাতের খাবার খাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া সমিতি পাড়ার আবদুস শুক্কুর জানান, তিনি হোটেল থেকে ৫ জনের খাবার নিয়ে এসেছেন। সেখানে এই খাবারই খাচ্ছেন তারা। একই এলাকার আমেনা খাতুনসহ তার পরিবারের সদস্যরা অভুক্ত। পারিবারের ছয় সদস্য নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন,‘ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানির ভয়ে পরিবারের সবাই খোনে এসেছি। কিন্তু খাবার কিছু না থাকায় কিছুই মুখে দেইনি।’ চরপাড়ার মোবারক জানান, কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনোয়ার হোসেন এলে তাদের খাবার দেয়া হবে । তিনি বলেন, ‘ভাত হত্তে দিবো ন যানি,পাইলে খাইয়ুম।( ভাত কখন দিবে জানি না, পেলেই খাব।)’ ওই কেন্দ্রের ১১ নম্বর কক্ষে একটি পবিবারকে বসে রাতের খাবার খেতে দেখা গেছে। তার মধ্যে খোরশিদা নামের এক গৃহবধু বলেন,‘বাড়ি থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার সময় বাড়িতে রান্না করা ভাত-তরকারির ডেকসি দিয়ে নিয়ে এসেছি। পরিবারের সদস্যরা মিলে তা খাচ্ছি।’ একইভাবে সমিতি পাড়ার আবদুল গফুর, রহমত আলীসহ সেখানে আরো অনেককে খেতে দেখা গেছে। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর ভবনে এনামুল হক নামের এক রিকশা চালক জানান, তিনি খাননি। তবে রাতের মধ্যে কিনে খেয়ে নেবেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।