রায়পুরে প্রবল ঝড়ে ফসল, ঘর-বাড়ি, গাছ-পালার ব্যাপক ক্ষতি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বুধবার (১৫ মে) মধ্য রাতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও হাওয়াতে ফসল, ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৪ ইউনিয়নের ৬টি চরের ও বেড়িবাঁধের বসবাসকারী লোকজনের ক্ষতি হয়। ২ দিন ধরে উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরাও তাদের প্রতিষ্ঠান খোলেননি।
উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও চরআবাবিল ইউনিয়নের চরকাছিয়া, চরজালিয়া, চরপাঙ্গাসিয়া, চরইন্দুরিয়া, চরপক্ষী ও চরবংশী এলাকা এবং উপকূলীয় বেড়িবাধের ওপর মেঘনা নদীর কূল ঘেঁষে প্রায় ৫ শতাধিক বসতি মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে ওই স্থানের অনেক পরিবারের সদস্য আশ্রয়ণকেন্দ্রে নিরাপদে গেলেও বৃদ্ধরা বসতিতে অবস্থান করছেন।
এদিকে ভোর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও জড়ো হাওয়ায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, অফিস আদালতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই।
বেড়িবাঁধের ওপর বসতি করা বৃদ্ধ আসমা বানু জানান, অনেক বছর ধরে স্বামী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ঘূর্ণিঝড় আসলেও আমাদের যাওয়ার কোন পথ নেই। সমস্যা দেখা দিলে সন্তানদের স্কুল ভবনের রেখে আসবো। আমার দুটি গরু, একটি ছাগল ও হাঁস-মুরগি আছে। এগুলো নিয়ে চিন্তিত আছি। শুনেছি সরকার শুকনো খাবার ওষুধ পাঠিয়েছেন কিন্তু সেগুলো আমরা এখনো পাইনি।
৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, বুধবার মধ্য রাতে জড়ো বৃষ্টি ও হাওয়াতে এ অঞ্চলের ৪টি চরের বিশাল একর জুড়ে হাজার হাজার মন কৃষকের ধান ও সয়াবিনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধের ঘরবাড়ি ও অনেক গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুৎ নেই দুইদিন ধরে। দরিদ্র মানুষগুলো কর্ম করতে না পারায় মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। তবে অনেক পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ঘুর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ আতংকে মেঘনার উপকূলীয় অঞ্চলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে জড় বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ঘর-বাড়ি, গাছপালাও উপচে পড়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার মাইকিং করে চরাঞ্চলের মানুষগুলোকে নিরাপদস্থানে রাখা হয়েছে। তাছাড়া সাইক্লোন সেন্টার ছাড়াও স্থানীয় স্কুল কলেজ ও সরকারি বিভিন্ন অফিসও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কয়েকটি চরের মানুষ তাদের ঘর বাড়ি, গবাদিপশু লুট হওয়ার আশংকায় আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।