কুবিতে অচল অবস্থা কাটেনি : তদন্ত কমিটি গঠন

কুবিতে অচল অবস্থা কাটেনি, ছাত্রলীগের আন্দোলনের ৩য় দিনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জুলফিকারকে প্রধান করে মঙ্গলবার রাতে এ তদšত কমিটি গঠন করা হয়।
বুধবার বেলা ১১ টায় কুবির ভিসি ড. আমির হোসেন খান ও রেজিস্টার ড. তৌহিদুল ইসলাম খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, এই কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদšত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

জানা যায়, কুবির লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীায় অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এক ছাত্রকে পাশ নম্বর দেয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) এই তিন সদস্য বিশিষ্ট এই তদšত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদšত কমিটির অন্য দু’জন সদস্য হলেন, রসায়ন বিভাগের ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিন ও অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ।

সুত্রে জানা জায়, গত কয়েক দিন ধরে শিক লাঞ্চনার জের ধরে আন্দোলনে করে আসছে শিকদের দুটি প। জানা যায়, সরকার সমর্থিত শিককে বাচাঁতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি সংগঠনের ছাত্রকে কারাগারে থাকার সত্বেও নম্বর প্রদানের অভিযোগে শিার্থীরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

তবে অন্য আরেকটি সূত্র বলছে, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানকে বাঁচাতে আটঘাট বেধে নেমেছে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালের জুলাইতে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ইলিয়াস হোসেন সবুজ অনৈতিকভাবে নম্বর বাড়িয়ে না দেয়ায় মশিউর রহমানের কোটবাড়ীস্থ ভাড়া বাসায় হামলা চালায় এবং তাকে অপহরনের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মশিউর রহমানের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় হামলাকারী ইলিয়াস হোসেন সবুজকে এক বছরের জন্য বহিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এবং পরবর্তীতে শৃঙ্খলা বিরোধী কোন কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিস্কার করা হবে বলে মুচলেকা দেয় ইলিয়াস। সেই প্রতিশোধে ইলিয়াস প্তি হয়ে মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে বলে অভিযোগ করেছে একাধিক শিক-শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য গত ১৬ তারিখে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানেরর হাতে লাঞ্চিত হন একই অনুষদের কলা অনুষদের ডীন ও সিনিয়র শিক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা। এতে ােভে উত্তাল হয়ে পড়ে সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক মনিরুজ্জামানের বিচারের দাবীতে গত সোমবার সাধারণ শিকরা উপাচার্যের নিকট স্মারকলিপি জমা দেয়। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় শিক সমিতি ও সাদা দলের শিকরা। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং ড. মনিরুজ্জামানকে বাঁচাতেই শিকদের একটি প মরিয়া হয়ে উঠে। বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ছাত্রদের একটি পকে মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নামিয়ে দেয়।

এদিকে, নম্বর প্রদানের বিষয়ে মশিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কোর্স শিক্ষকের নম্বর নোটিশ বোর্ডে খসড়া টানিয়ে দেয়া হয়। এতে কারো অভিযোগ থাকলে পরবর্তীতে সংশোধন করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেয়া হয়। তিনি আরো জানান, বিভাগের কম্পিউটার অপারেটরকে ১৫ নম্বর এর মধ্যে ৪ নম্বর এসাইনমেন্ট এবং ৮ নম্বর প্রেজেন্টেশনে সবার নামে বসিয়ে বাকি পরীক্ষার নম্বর যোগ করে নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দিতে বলি। এেেত্র অনুপস্থিত আয়তুল্লাহ বুখারীর নামেও নম্বর যোগ হয়ে যায় অনিচ্ছাকৃতভাবে। পরর্তীতে বিষয়টি আমার নজরে আসলে আমি সংশোধন করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেই। এমনকি এ বিষয়টি সাথে সাথেই আমি বিভাগীয় প্রধানকে লিখিত ভাবে জানাই।

জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন অফিস থেকে জানানো হয়, কোর্স শিক্ষক সংশ্লিস্ট কোর্সের অভ্যান্তরীণ ৪০ নম্বররের কপি জমা দিয়েছেন। তবে আমরা খুলে দেখি না এখানে কার নম্বর আছে কি নাই। এটা কর্তৃপ যদি খুলে দেখার প্রয়োজন মনে করে তবেই দেখা হবে। নোটিশ বোর্ডে সাটানো কপির ব্যাপারে তিনি বলেন, খসরা কপি শিার্থীদের দেখার জন্য বোর্ডে টানানো হয়। শিার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংযোজন কিংবা বিয়োজন করে আমাদের কাছে কোর্স শিকরা ফাইনাল কপি জমা দেয়।

এছাড়া, লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রধান মাসুদা কামাল জানান, উক্ত শিক আমাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। সংশোধন কপি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। আর খসরা কপি বোর্ডে দেয়াই হয় শিার্থীদের দেখার জন্য।
এ বিষয়ে কুবির ভিসি ড. আমির হোসেন খান জানান, বুধবার সকালে একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশ নম্বর দেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদšত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদšত রিপোর্ট জমা দেবে।
তবে আন্দোলনকারী শিার্থীদের প থেকে জানানো হয়, মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যšত আমাদের আন্দোলন চলবে। তারা আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে, তবে পূর্ব নির্ধারিত সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা আন্দোলনের আওতামুক্ত থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।