কুমিল্লা পলিটেকনিকের অচালবস্থা কাটেনি

কুমিল্লার শিাঞ্চল নামে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী কোটবাড়ীর বুক ঘেঁষে ২৬ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রাচীনতম এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে অনেক সুনাম ও সংখ্যাতি। প্রায় ৫০০০ জন শিার্থীর এই ক্যাম্পাস দেশকে উপহার দিয়েছে ছোট বড় অনেক প্রকৌশলী।

গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর রবিবার সারা বাংলাদেশে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারদের পদ মর্যাদা বৃদ্ধি ও বেতন ভাতা বৈষম্যর প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশে পলিটেকনিক শিার্থীদের আন্দোলন ধাবাবাহিকতার আন্দোলন করে কুমিল্লা পলিটেকনিক শিার্থীরা। প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা ব্যাপী আন্দোলনে পুলিশ ও শিার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিুদ্ধ শিার্থীরা কোটবাড়ী পুলিশ ফাড়ী, ক্যাম্পাসে ভাংচুর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে আগুন ও পাশে অবস্থিত বিজয়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে পথচারী শিার্থী এবং ৮ পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করতে বাধ্য হন প্রশাসন এবং সরকারি কাজে বাধাঁ ও পুলিশের উপর হামলা এবং সন্ত্রাস দমন আইনে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিসিএন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ৩৩ জন শিার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২ হাজার জনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়ের এর পর গ্রেফতার আতংক শিার্থীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে কাস পরীা সহ শিার স্বাভাবিক কার্যক্রম। যার ফলে অভিভাবকত্বহীন হয়ে পড়েছে কোটবাড়ী মানুষের স্বপ্নের এই ক্যাম্পাসটি। প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ হওয়ার অজানা আতংক এবং নিজেদের শিা জীবন নিয়ে চিন্তিত সাধারণ শিার্থীরা।

এদিকে ২০১৩-১৪ শিাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি কোন কাস যা নতুন শিার্থীদের মাঝে সৃষ্টি একরকম হতাশা। প্রতিষ্ঠানের এই অচলাবস্থায় ও নিজেদের শিাজীবন নিয়ে বিুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শিার্থীরা।

এই বিষয়ে সিভিল বিভাগের ছাত্র সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন- আমি মনে করি সরকার আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে আমাদের প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করে আমাদের শিা জীবনের হতাশা দূর করবেন।

প্রতিষ্ঠানের এই অচলাবস্থায় কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্য আখতারুজ্জামান বলেন- আমরা অনেক আগ থেকে কাস চালু করেছি কিন্তু শিার্থীরা এখনও কাসে ফিরছে না। আমি আশা করি সকল শিার্থীরা পুনরায় কাসে ফিরে তাদের স্বাভাবিক শিা কার্যক্রমে অংশ নিবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।