নাটোরে সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত

নাটোরে অবরোধ ও হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে সাইফুজ্জামান সুজন নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এ হাই তালুকদার ডালিমসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন শহরের কানাইখালি এলাকার সালামতের ছেলে। আহতদের নাটোর সদর, মিড মিশনস হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবারও জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দেশব্যাপী অবরোধের সঙ্গে সাবেক উপমন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মুক্তির দাবিতে দুলু মুক্তি পরিষদের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে নাটোরে। সোমবার সকাল থেকেই হরতালের সমর্থনে শহরের আলাইপুরে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনেসহ মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। হরতাল প্রতিরোধে শহরের কানাইখালী কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগকর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে শহরের কানাইখালী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ সুজনকে মিড মিশনস হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া গুলিবিদ্ধ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এ হাই তালুকদার ডালিমকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকার নাহার ক্লিনিকে ও কয়েকজনকে মিড মিশনস হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে রাতে থেমে থেমে শহরের বিভিন্ন স্পটে ককটেল বিস্ফোরণ করে ভীতি ছড়ায় তারা। দেশব্যাপী অবরোধ চলায় বড় যানবাহন বন্ধ থাকায় হরতালের আওতামুক্ত পরিবহণের ওপর ঝাল ঝারে বিক্ষুব্ধ পিকেটাররা। শহরের বিভিন্ন মোড়ে রিকশা হাওয়া ছেড়ে দেয়াসহ অনেক রিকশার টায়ার কেটে ফেলা হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষেরা।

এছাড়া অনেক স্থানে সাইকেল আরোহীদেরও চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়। ফলে পরিবহণ না পেয়ে পায়ে হেঁটে প্রয়োজনীয় স্থানে চলাচল করতে হচ্ছে শহরবাসীকে। এছাড়া রোগী ও ওষুধবাহী পরিবহণ চলাচলেও বাধার সৃষ্টি করে পিকেটাররা

এদিকে, সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। গাড়িতে সাংবাদিক বা প্রেস সম্বলিত স্টিকার লাগানো থাকলেও গাড়ি থামিয়ে সংবাদকর্মীদের পরিচয়পত্র চেক করা হয়। এতে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, শহরের হরিশপুরে হাসপাতালের কাজে ব্যবহৃত অক্সিজেনবাহী একটি পিকআপকে রাস্তায় থামিয়ে দেয় পিকেটাররা।  হরতালের কারণে যানবাহন বন্ধ থাকার পাশাপাশি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এরআগে রোববার দুপুরে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুলু মুক্তি পরিষদের সভাপতি নাটোর পৌরসভার মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুন হরতালের ঘোষণা দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।