রংপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১১

অবরোধের চতুর্থ দিনে মঙ্গলবার রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায় চলছে আতংক। নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশে পাশাপাশি পেকেটিং করছে ১৮ দল।

লালবাগে রাস্তায় আগুন দিয়ে অবরোধ ও পিকেটিং করে শিবিরকর্মীরা। বিস্ফোরণ হয় ককটেলের। পুলিশ জেলা বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজন বিএনপি ছাত্রদল নেতাকর্মী এবং চারজন শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে কাউনিয়ার মধুপুরে ১৮ দল রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও লাঠিমিছিল করে।

ভোরের আগেই মডার্ন মোড়ে মহাসড়কের উপর নির্ধারিত মঞ্চে ১৮ দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হেসেনের নেতৃত্বে জোট নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সকালে নগরীর লালবাগে মহানগর ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সড়কে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় ওই এলাকায় পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

এদিকে, এ  ঘটনার পর পুরো নগরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরব হয়ে উঠে। নগরীর ১৫টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে। পাশাপাশি রয়েছে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সার্বক্ষণিক টহল। নগরীতে দোকানপাট অফিস আদালত খোলা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি না থাকায় সবখানেই ছিল চরমমন্দভাব।

এদিকে, গ্রামেগঞ্জে অবরোধের কারণে দোকানপাটও খোলা থাকছে না। কাউনিয়ার মধুপুরে সোমবার রাতে এক যুবলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক শিবিরকর্মীর মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনার জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে রাতে ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়। পরে সকালে ১৮দলীয় জোট নেতাকর্মীরা সকাল থেকে রাস্তার উপরে শত শত গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ওই রাস্তায় সাইকেল, রিকশা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১ টায় সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নেয়।

এদিকে, পুলিশ মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে মিঠাপুকুর থেকে রেজওয়ান ও রোকন  নামের দুই বিএনপি কর্মী, কাউনিয়া থানা জামায়াতের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান সরকার, তারাগঞ্জের বিএনপি নেতা কেচু মামুদ ও নবী হোসেন, মহানগরী থেকে শিবির নেতা মনিমুল ইসলাম, গোলাম রব্বানী, ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মেহেদী, হ্যাপি ও মনোয়ারুল ১৯ এবং পীরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম মোহাম্মদ রয়েছেন।

জেলা গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতা রকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন খলিফা জানান, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে। নাশকতাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে, দুপুর পর্যন্ত নগরীসহ জেলার কোথাও কোনো বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। জেলার উপজেলা সদর এবং বিভিন্ন হাটবাজারে মিছিল বিক্ষোভ করছে ১৮ দলীয় জোট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।