দালালদের কাছে সাধারণ চাষীরা জিম্মি: কক্সবাজারে পুরোদমে চলছে লবণ উৎপাদন

কক্সবাজার জেলায় নানা সমস্যা আর সম্ভাবনা নিয়ে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, টেকনাফ ও রামুসহ প্রতিটি উপজেলায় পুরোদমে চলছে লবণ উৎপাদন কাজ। আর চাষের শুরুতে লবণে মূল্য কম থাকায় জেলাব্যাপী চাষীরা শংকায় রয়েছেন। গত মৌসুমে লবণের মূল্য স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকায় চাষীদের প্রচুর লোকসান হয়েছে। চলতি মৌসুমে চাষীরা লোকসান পোষানোর স্বপ্ন দেখে লবণ চাষ শুরু করেছে। অনেকে মনে করছেন আগের মৌসুমের মত হবে না। দিন দিন সব পন্য সামগ্রীর দাম বাড়লে ও শুধু লবণের দাম বাড়েনি। আবার লবণের দাম কমার আশংকায় চাষীরা শংকায় রয়েছেন। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে লবণের দাম কমলে উপকূলবাসীর মনে সরকারের প্রতি ােভ বাড়তে পারে। সেেেত্র সদ্য ঘোষিত ৫ই জানুয়ারী দশম জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে উপকূলবাসী সরকারকে প্রত্যাখান করারও আশংকা রয়েছে বলে মনে করছেন আ’লীগ নেতারা। অভিযোগ রয়েছে গত বছরে স্থানীয় ও নারায়নগঞ্জের কতিপয় আমাদানি কারক সিন্ডিকেট সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র মূলক ও ভুল পরামর্শ দিয়ে বিনা শুল্কে পুনরায়  লবণ আমদানির সরকারী ঘোষণায় দণি চট্টগ্রাম তথা গোটা ককসবাজারে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। চলতি উৎপাদন মৌসুমে সরকারের লবণ আমদানির এ সিদ্ধান্তটি বাতিল না করলে আত্মঘাতি ও দেশীয় লবণ শিল্পের জন্য মহা বিপর্যয় হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। এমনিতে এ অঞ্চলে সরকারী দল আওয়ামীলীগের আসন কম। এ অবস্থায় লবণ আমদানী ও লবণের দাম কমে গেলে আগামীতে এ অঞ্চলে সরকারী দলের  আসন  ধরে রাখা যাবেনা বলে রাজনৈতিক ভাষ্যকারগনের অভিমতে প্রকাশ। দণি চট্টগ্রাম তথা ককসবাজার এলাকায় দীর্ঘকাল থেকে আওয়ামীলীগের প্রতি একটি ভুলধারণা ছিল যে, তারা মতায় আসলে চোরাই পথে ভারত ও বার্মাইয়া লবণের ছড়াছড়ি হবে এবং দেশীয় লবণের দাম পানির মূল্যে পরিণত হতে পারে। বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় না আনা হলে সম্ভাবনা ময় দেশীয় লবণ শিল্প ধবংস হয়ে যাবে এবং লাখ লাখ লোক বেকার হয়ে যাবে। সেই সাথে এ অঞ্চলে আগামী ৫০ বছরে  আওয়ামীলীগ সরকারের বদনাম ঘুছানো যাবেনা বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। একটি মাত্র অঞ্চলের উৎপাদিত লবণ গোটা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশ রপ্তানির অবস্থা তৈরি হলে ও সম্ভাবনাময় লবণ শিল্পের বিকাশের সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে বলে স্থানীয় চাষীদের অভিযোগ। লবণ শিল্পের সার্বিক সহযোগিতার ল্েয আশির দশকের লবণ বোর্ড গঠনের জন্য তৎকালিন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বর্তমান সরকার বোর্ড গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করলেও তা বাস্তবায়নে আমলা তান্ত্রিক জটিলতায় আজও বাস্তবতার মুখ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশ ুদ্র ও কোটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) লবণ শিল্পের আধুনিকায়ন, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরী সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তবু ও এ অঞ্চলের হাজার হাজার লবণ চাষী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখলে ও তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য নিয়ে বার বার নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। বর্তমান সমিায় দেখা গেছে এক একর লবণ মাঠের চাষীদেরকে পুজি কাটাতে প্রায় এক লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এক একর লবণ মাঠে প্রায় ৮/৯শ মেঃটন লবণ উৎপাদিত হতে পারে। বর্তমানে চাষীরা মাঠ পর্যায়ে মণ প্রতি দাম পাচ্ছে মাত্র ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা হারে। বর্তমান বাজার অনুসারে চাষীরা  মোটামোটি  সারতে পারবে। যদি এর চেয়ে দাম কমে যায় লাভতো দুরের কথা চাষীদেরকে উল্টো প্রতি একরে ৪০/৫০হাজার টাকা করে লোকসানের শিকার হতে হবে।  ককসবাজার জেলার কুতুবদিয়া মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, ককসবাজার সদর টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) এলাকায় প্রায় ৭৭হাজার একর জমিতে সরাসরি এক লাখ প্রাস্তিক লবণ চাষী জড়িত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে প্রায় ৫/৬মাস এক টানা লবণ উৎপাদিত হয়। গত বেশ কয়েক বছরে বিসিক উদ্ভাবিত পলিথিন পদ্ধতিতে ব্যাপক ভাবে সাদা লবণ উৎপাদন শুরু হয় এবং এতে আশাতীত সফলতা ও আসে। বিগত ১০বছরে চাহিদার অতিরিক্ত লবণ উৎপাদনের রেকর্ড রয়েছে বলে বিসিক সূত্রে জানা গেছে। দেশে লবণ উদ্বৃত্ত থাকায় লবণ আমদানী খাতে সরকারকে একটি ডলার ও খরচ করতে হয়নি। সরকার ২০০৯ সনের জানুয়ারী থেকে লবণ আমদানির উপর সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সুযোগে মজুদদার ও আমদানী কারক সিন্ডিকেট সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লবণ আমদানি করে দেশের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। মধ্যখানে বেশ কিছুদিন লবণ আমদানী বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ভারত ও বার্মাইয়া লবণে বাজার সয়লাভ হওয়ার আংশকায় চাষীরা ন্যায় মূল্য পাওয়া নিয়ে শংকিত রয়েছে। এ দিকে লবণের দালালদের খপ্পরে পড়ে অসংখ্য প্রাস্তিক চাষী  রাস্তায় নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক লবণ চাষী। খোদ বিসিকের লবণ প্রদর্শনী খামার গুলো বার বার টেন্ডার আহবান করে ও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছেনা বলে বিসিক সূত্রে জানা গেছে। দেশের লবণ শিল্পকে বাঁচাতে হলে এ মুহুর্তে প্রধান মন্ত্রীর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে  জরুরী হস্তপে ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন লবণ চাষীরা। লবণ শিল্পের সাথে জড়িত দণি চট্টগ্রামের বিশ লাখ জনগনের প্রতি প্রধান মন্ত্রী দয়া করলে লবণ শিল্পের মহা বিপর্যয় থেকে রা পাবে। তারা লবণ আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখা ও চোরাই পথে লবণের অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। তারই ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের প্রাণের দাবী লবণ শিল্পকে বাচিয়ে রাখার জন্য গত বছর কুতুবদিয়া মহেশখালীকে পৃথক পৃথক বিভিন্ন সমাবেশের আয়োজন করে কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লবণ আমদানী বন্ধ করার জন্য দাবী জানান। গত বছর কক্সবাজার কার্গো ট্রলার শ্রমিক কল্যাণ সমিতি কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা কতিপয় সুযোগ সন্ধানী আমদানী কারক সিন্ডিকেট সরকারের পলিসি লেভেলে ভুল প্রস্তাব দিয়ে ইতো মধ্যেই প্রায় চার লাখ মেট্রিকটন লবণ আমদানি করেছে বলে অভিযোগ করেছিল। বর্তমানে চলতি মৌসুমের নতুন লবণ ও বাজারজাত হবে। তৃণমূল লবণ চাষীরা অবিলম্বে বিদেশী লবণ আমদানি বন্ধ করে লবণের ন্যার্য্য মূল্য নিশ্চিত সহ দেশীয় লবণ শিল্পের বিকাশে যুগোপযোগি পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের জন্য সরকারী প্রতি জোর দাবী জানান।  এদতঞ্চলের বিভিন্ন সংগঠনের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পেশা জীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ  সহ সর্বস্তরের জনগণ লবণ শিল্পের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ব্যাপারে সরকারকে সুনজর রাখার দাবী জানান। অপরদিকে পুরো জেলা ব্যাপী লবণ উৎপাদন পুরোদমে শুরু হয়েছে।  বাজার মূল্য নিয়ে চাষীরা  একই ভাবে শংকিত।  আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিসিকের ৪ টি লবণ প্রদর্শণী খামার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শত শত শ্রমিক কর্মচারী বেকার । কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি এ’ মুহুর্তে লবণে বাজার মূল্য নিয়ে চাষীরা মহাহতাশার মধ্য দিয়ে লবণ উৎপাদন করে যাচ্ছে। এ’ দিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রাষ্ট্রয়াত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান বিসিকের ৪টি লবণ প্রদর্শণী খামারে প্রায় ৪শত একর জমি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে লবণ উৎপাদন প্রদর্শণী খামারে জড়িত শত শত মৌসুমী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। বিসিক পরিচালিত ৪টি লবণ উৎপাদন প্রদর্শণী খামার গুলো হচ্ছে কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ী, চৌফলদন্ডি ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী। তম্মধ্যে কুতুবদিয়া লবণ প্রদর্শণী খামারটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়। এ’ ৪টি খামারে প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে মৌসুমি শ্রমিক নিয়োগ করে আধুনিক প্রযুুক্তি পলথিন পদ্ধতিতে সাদালবণ উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় হতে ফান্ড অনুমোদন না হওয়ায় এখনো পর্যন্ত খামার গুলোতে লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছেনা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রে প্রকাশ বাংলাদেশ ুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) পূর্ণ রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিগত ২০০৫ সন থেকে এ সংস্থার বহু কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা অনিয়মিত হয়ে পড়লেও বর্তমান সরকার ২০১০ সালের মার্চ মাস থেকে বেতন ভাতা দিয়ে আসছে বলে জানা যায়।  কুতুবদিয়া (বিসিক) এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আলম জানান কুতুবদিয়ায় মোট লবণ চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ছয় হাজার ছয়শত পঁচানব্বই একর। তার মধ্যে ল্যমাত্রা ১৪ লাখ মেঃ টনের অধিক। বিগত বছরে ২ লাখ ৩০ মেঃ টন ঘাটতি ছিল। বেতন ভাতার ব্যাপারে তিনি জানান বিগত ২০০৫ সন থেকে বেতন ভাতা ছাড়া খুব কষ্টের মাধ্যমে চাকুরী করলেও বর্তমান নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছে। বিসিক’র সহকারী পরিদর্শক জাকের হোসেন জানান সরকার গত ২ মাস আগে আবার লবণ আমদানির ঘোষণার ফলে চাষীরা ব্যাপক হতাশার মুখে। তাকে বিসিকের লবণ প্রদর্শনী খামার অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি অর্থ, লোকবল ও অবকাঠামো সহ বিভিন্ন সমস্যার থাকার কারণে বিসিকের খামারে লবণ উৎপাদন করা যাচ্ছে না বলে স্বীকার করেন। সরকারের প থেকে কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় লবণ উৎপাদন মৌসুমের এক মাস অতিক্রান্ত হলেও বিসিক’র ৪টি লবণ উৎপাদন প্রদর্শনী খামার  অবহেলায় পড়ে আছে। এতে করে একদিকে সরকারের আর্থিক তি, অপরদিকে খামার সংশ্লিষ্ট শত শত কর্মকর্তা কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।