কয়রায় অপহৃত তিন স্কুলছাত্রকে ফেরত দিয়েছে বনদস্যুরা

খুলনার কয়রা উপজেলার ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের তিন ছাত্রকে অপহরণের একদিন পর বুধবার ভোর রাতে  পুলিশি অভিযানের মুখে ফেরত দিয়েছে বনদস্যুরা।

সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় প্রাইভেট পড়ে বাড়িতে ফেরার পথে সুন্দরবন সংলগ্ন ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের  তিন ছাত্রকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছিল বনদস্যুরা।

অপহৃতরা হলো- ৬ নম্বর কয়রা গ্রামেরর আজিজুল গাজীর শিশু পুত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আবু সালেহ (৯), একই গ্রামের নুর বকস ঢালীর শিশু পুত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আবুল হাসান (১০) ও গোলাম মোস্তফা ঢালীর পুত্র ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্র মুজাহিদ (১২) ।

অপহরণের খবর জানাজানি হলে পুলিশ উদ্ধার কাজে ব্যাপকভাবে তৎপর হয়। ৬ নম্বর কয়রার ফজলুল হক গাজীর পুত্র মফিজুল গাজীর সঙ্গে অপহরণকারীদের যোগসূত্র রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মফিজুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে আটক মফিজুল গাজী অপহরণকারী দলের সদস্য একই গ্রামের লতিফ সানার ছেলে রিয়াছাদ খোকনের নাম জানায়। এ সূত্র ধরে পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে বনদস্যুরা তিন স্কুল ছাত্রকে ফেরত দিতে সম্মত হয়ে এসআই পারভেজ আলমের মোবইল ফোনে যোগাযোগ করে। এর সূত্র ধরে তিন স্কুল ছাত্রকে বনদস্যুরা বুধবার ভোর রাত চারটায় ৫ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর ওপারে গাছের ডালে তুলে দেয়। সকালে সেখান থেকে তাদের পুলিশি সহায়তায় স্থানীয়রা তাদের তিনজনকে ফিরিয়ে এনে স্ব স্ব অবিভাবকের কাছে পৌঁছে দেয়।

অপহৃত ছাত্র আবুল হাসানের পিতা নুর বকস ঢালী জানিয়েছে, দস্যুরা মুক্তিপণ দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণ ছাড়াই পুলিশ তার ছেলেকে উদ্ধার করেছে। এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

অপহৃত স্কুল ছাত্র মুজাহিদ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় তাদের মফিজুল গাজীসহ আরো পাঁচজন মুখ চেপে ধরে জোর করে নৌকায় তুলে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে যায়। বাড়িতে ফিরে আসা না পর্যন্ত তাদের কিছু খেতে দেয়া হয়নি বলে অপহৃতরা জানায়।

এসআই পারভেজ আলম জানান, আটক মফিজুল গাজীর সঙ্গে অপহরণকারী দলের সদস্যদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।