নেলসন ম্যান্ডেলা আর নেই

অসুস্থতা এবং বয়সের কাছে হার মানলেন মাদিবা। ৯৫ বছর বয়সে মৃত্যু হল জাতিবিদ্বেষ বিরোধী আন্দোলনের আইকন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলার। জোহানেসবার্গের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমা জাতীয় টিভি চ্যানেলে জাতির উদ্দেশে নিজের ভাষণে বলেন, ‘দেশ নিজের সবচেয়ে মহান পুত্রকে হারিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গীরা, নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের একত্রিত করেছেন। আমরা সকলে মিলে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি দেব।’

মাদিবার প্রয়ানের খবর পাওয়ার পর শোকব্যক্ত করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা মানবতার প্রেরণা।’ আবার নিজের শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ম্যান্ডেলা প্রকৃত অর্থেই গান্ধীবাদী। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ভারতেরও ক্ষতি।’

এদিকে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাও। বলেন, ‘বিশ্ব সর্বাধিক প্রভাবশালী, নির্ভীক এবং এক ভালো মানুষকে হারাল।’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ভাষায় ম্যান্ডেলা ‘আমাদের সময়কালের হিরো’ এবং তিনি বলেন, ‘বিশ্বের উজ্জ্বল আলো নিভে গেল।’

মাদিবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকাহত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ। এক বাসিন্দার ভাষায়, ‘মনে হচ্ছে যেন নিজের বাবাকে হারালাম। তিনি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি আমাদের রোল মডেল। আমাদের নেতাদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।’

নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক স্থগিত করে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। নেলসন ম্যান্ডেলাকে ‘জায়েন্ট ফর জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি-মুন। বলেন, ‘যদি আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় এবং মনুষত্বের জন্য একসঙ্গে স্বপ্ন দেখা এবং কাজ করা যায়, তা হলে বিশ্ব এবং নিজেদের জন্য কী কী করা সম্ভব, তা নেলসন ম্যান্ডেলা করে দেখিয়েছিলেন।’

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মাদিবার অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি জুমা। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করারও নির্দেশ দেন জুমা। সূত্র: বিবিসি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।