হরতাল-অবরোধের শিকার পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে: ১৭৫টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ

পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের গেটওয়ে খ্যাত কুমিলার লাকসামে চলমান হরতাল অবরোধে বিভিন্ন পয়েন্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নাশকতা এড়াতে দিন-রাত পাহারায় রয়েছে রেলওয়ে থানা পুলিশ, আনসার ও নিরাপত্তা বাহিনী।
আইন-শৃংঙ্খলা রাকারী বাহিনী পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রায় ১৭৫টি পয়েন্ট অধিক ঝুঁকিপূর্ন হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এসব পয়েন্ট বিরোধী দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধে প্রায়ই আক্রান্ত হয়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকছে। সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ের ৮৬টি ঝুঁকিপূর্ন পয়েন্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে জিআরপি, আনসার ও নিরাপত্ত বাহিনী সহিংসতা এড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। জিআরপি পুলিশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ন অন্যান্য পয়েন্টগুলো চিহ্নিতের কাজ শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, লাকসামের ১৭টি, কুমিলায় ২টি, আখাউড়ার ১৬, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ১৩টি, মীরসরাইয়ের ১৬টি, ভৈরবের ২৬টি ও ঢাকার ৬টি পয়েন্ট অধিক ঝুঁকিপূর্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লাকসাম জিআরপি ওসি মোঃ আহসান হাবিব জানান, রেলওয়ের সম্পদ রায় পুলিশ রাত-দিন তৎপর রয়েছে। যখনই কোথায়ও রেলওয়ে আক্রান্তের খবর আসে, তখনই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার (জিআরপি) নজরুল ইসলাম জানান, যেসব স্থানে পুলিশের উপস্থিতি নেই কিংবা কম ওই স্থানগুলোতে রেলওয়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পূর্বাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ন প্রায় ১৭৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে এছাড়া ও ঢাকা- চট্টগ্রাম রুটে ৮৬টি অধিক ঝুঁকিপূর্ন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অংশে ১৯টি পয়েন্টে ইতিমধ্যে আনসার মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে। আনসার ভিডিপি রেঞ্জ কমান্ডার মাহবুব উল ইসলাম বলেন, সীতাকুন্ড উপজেলার আগে ১৩টি এবং মিরসরাইয়ের আগে ৬টি পয়েন্টে ৪ জন করে আনসার ছিলো পরবর্তীতে আরো ২ জন করে বাড়তি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রেল লাইনের নাশকতা প্রতিরোধে এসব আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশও সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা পরিচালক আবু তাহের।
জিআরপি সূত্র জানায়, রেলওয়েতে নাশকতার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরসহ অভিযুক্ত আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বলেন, গত ২৫শে অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত হরতাল অবরোধে নাশকতায় রেলওয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকার তিসাধিত হয়েছে। পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের ১ হাজার ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ৮ জন আনসারের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সার্বণিক সহযোগিতা করছে। তিনি আরো বলেন, রেলওয়েকে নিরাপদ রাখতে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণের জন্য যাত্রীসাধারণের প্রতি আহবান জানান।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে রেললাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় চাদঁপুর থেকে চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস লাকসাম আসার পথে সাহাতলী নামক স্থানে ইঞ্জিনসহ ৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে দেড়শতাধিক যাত্রী, কুমিল্লা সদর দনি উপজেলা শ্রীনিবাস নামক স্থানে ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে শতাধিক যাত্রী আহত, বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর নামক স্থানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস গোধুলির ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে শতাধিক যাত্রী আহত হয়। এতে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকা তিসাধিত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।