যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী পক্ষের সাক্ষী মোস্তফা হাওলাদার মারা গেছেন

কবির হোসাইন, পিরোজপুর প্রতিনিধি ঃ জামায়াত নেতা সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী পক্ষের স্বাক্ষী মোস্তফা হাওলাদার (৫৫) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মধ্যরাতে মারা গেছেন। তার লাশ আজ মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ তার বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

মোস্তফা হাওলাদারের উপর হামলান ঘটনায় গতকাল সোমবার তার ছোট ভাই আব্দুল মজিদ হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতজনদের আসামী করে জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ০৩। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী থানার পুলিশ।

ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইন চার্জ  মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দিচ্ছিল তাদের সদস্যরা। নিরাপত্তায় ত্রুটি ছিলনা তাদের। মধ্যরাতে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে আক্রমন করে তাকে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত মোস্তফা পরিবার। তার ছোট ভাই আব্দুল মজিদ হাওলাদার এ ঘটনায় মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজী হননি। পিরোজপুরের সহকারী পুলিশ সুপার এমএন মোর্শেদ জানান, রাষ্ট্রপক্ষের বাদী ও স্বাক্ষীরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকায় তাদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। তাদেরকে এক জায়গায় রেখে নিরাপত্তা দিতে পারলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা যেত।

উল্লেখ্য গত ৭ ডিসেম্বর শনিবার মধ্যরাতে (রাত আনুমানিক একটার দিকে) নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় তার ঘরে সিঁদ কেটে এক দুর্বিত্ত্ব ঢুকে। এ সময় তার স্ত্রী হাসিনা বেগম উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার দিলে ওই দুর্বিত্ত্ব ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে মোস্তফার স্ত্রীর হাত কেটে যায়। এ সময় মোস্তফা তাকে ধরতে গেলে চোর মোস্তফাকেও আঘাত করে। ফলে মোস্তফার মাথা মারাত্মক জখম হয়। রাত আড়াইটার দিকে তাদের পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গত সোমবার মধ্যরাতে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।