কসবার সেনাসদস্য শান্তিরক্ষা মিশনে সড়ক দুঘটনায় নিহত, গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

একমাস আগে জাতিসংগের শান্তিরক্ষা মিশনের  কঙ্গু গিয়েছিলেন বগুড়া সেনানিবাসের বাংলাদেশ সেনাবাহীনির আর্টিলারী কমান্ডো কোরের নায়েক মো. রফিকুল ইসলাম (৩৩)। সেখানে গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর)  সড়ক দুঘটনায় তিনি মারা গেছেন। এ খবরে রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চলছে শোকের মাতম।
নিহত মো. রফিকুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তাহের মিয়ার পুত্র।
নিহতের গ্রামের বাড়ি সরেজমিনের ঘুরে জানা গেছে; ১৫ বছর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহীনির আর্টিলারী কমান্ডো কোরে সৈনিক হিসাবে যোগদান করেন মো. রফিকুল ইসলাম।  পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি নায়েক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি ৪ বছর আগে একবার কঙ্গু গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এক বছর চাকুরী করেছেন।
গত ১৩ নভেম্বর রফিকুল ইসলাম আবারও শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গু যায়। গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে কর্মস্থলে সড়ক দুঘটনায় তিনি মারা যান। গত বুধবার রাতে বগুড়া সেনানিবাসের সিও মুঠোফোনে রফিকুল ইসলামের পিতা আবু তাহের ও তার স্ত্রী রোকসানা বেগমকে জানায়।
এ খবর পেয়ে মা মমিনা বেগম পুত্র শোকে কাতর হয়ে যায়। তিনি বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তার মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে; রফিকুল ইসলাম ২০০৪ সালে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মুকিমপুর গ্রামে বিয়ে করেন। পারিবারিকভাবে তিনি ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। স্ত্রী রোকসানা আক্তার  ছেলে মেয়ে নিয়ে ঢাকার শনিআখড়া এলাকায় বসবাস করেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি অজ্ঞান হয়ে আছেন। তিনি কোন কথা বলতে পারছেন না। বড় ছেলে রুবাইয়েত ইসলাম (৭) মেয়ে সানজিদা আক্তার (৫) পিতার মুত্যুর খবর শুনলেও তাদের বাবা নেই বুঝে উঠতে পারেনি। রোকসানা আক্তারের বড় ভায়ের স্ত্রী নাজমা আক্তার মুঠোফোনে বলেন; খবর শুনার পর থেকে রোকসানা আক্তার অজ্ঞান হয়ে আছেন। তিনি বলেন; কঙ্গু থেকে বিকেলে খবর আসে সড়ক দুঘটনায় রফিকুল ইসলাম আহত হয়েছে। রাতে খবর আসে তিনি মারা গেছেন।
রফিকুল ইসলামের পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বলেন; তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে রফিকুল ইসলাম মেঝো ছেলে। রাতে বগুড়া সেনানিবাস থেকে সিও ফোন করে তার ছেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো বলেন; সিও সাহেব বলেছে; আজ শুকবার না হয় শনিবার হেলিকাপ্টার দিয়ে লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।