সোনাগাজীতে ১৮দলের ১৪৪ ঘন্টার অবরোধ ও জামায়াত-শিবিরের হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদ ও নির্দলীয় নিরপে তত্তাবধায়ক সরকার এবং আটককৃত কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা দেশ ব্যাপী ১৪৪ ঘন্টার সড়ক,নৌ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচী এবং ফেনীতে পুলিশের গুলিতে শিবির নেতা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে জামায়াত শিবিরের ডাকা সকাল সন্ধ্যার হরতাল সোনাগাজীতে শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। উপজেলার পৌর শহর সহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিােভ মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে ১৮দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এইছাড়াও হরতালের সমর্থনে দফায় দফায় পৌর শহরে বিােভ সমাবেশ করেছে জামায়াত শিবির। এদিকে অবরোধের সমর্থনে বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরে বিােভ মিছিল বের করে উপজেলা ও পৌর যুবদল-ছাত্রদল। মিছিলটি শহরের পশ্চিম বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক গুলা প্রদণি শেষে তাকিয়া রোড়ের মাথায় গিয়ে সংপ্তি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পৌর যুবদলের সভাপতি সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আলম ভূঁঞার পরিচালনায় সংপ্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন খোকন চেয়ারম্যান,সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ চেয়ারম্যান,পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সিরাজ উদ্দিন দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মঞ্জুর হোসেন বাবর, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন পাটোয়ারী, নুর করিম, সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম ভূঁঞা, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউ.এস.দুলাল, যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম, যুবদল নেতা বিপু চৌধুরী, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, ওলামা দলের সভাপতি  আবদুল মতিন, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি হাসান মাহমুদ ও বুলবুল প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বৃহস্পতিবার নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ১৮দলীয় জোট নেতাকর্মীদের বিদেয়ী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এঘটনার জন্য সরকার কে দায়ী করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। বক্তারা আরো বলেন আগামী দিনের খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল প্রকার আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করা সহ আওয়ামী দূরশাসনের জবাব দেওয়ার জন্য আহবান জানান। এদিকে ১৮দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সড়কে গাছের গুটি ফেলে, টায়ারে আগুণ জ্বালিয়ে ফেনী শহর ও সোনাগাজী উপজেলার সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। রাতের আধারে গত ছয় দিনেই শতাধিক ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের শব্দে পুরো উপজেলার সাধারণ জনতার মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে। অপরদিকে অবরোধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দন্ডপ্রাপ্ত আটককৃত শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবী এবং ফেনীতে পুলিশের গুলিতে ছাত্র শিবিরের নেতা আবদুল্যাহ আল ছালমান নিহত হওয়ার প্রতিবাদে হরতালের সমর্থনে পৌর শহরে দফায় দফায় বিােভ মিছিল করেছে জামায়াত শিবির। মিছিলের নেতৃত্বদেন জেলা জামায়াতের মজলিশ সুরার সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফখর উদ্দিন,মাওঃ কালিম উল্যাহ, উপজেলা আমির মাওঃ মোঃ মোস্তফা, সেক্রেটারী একে.এম বদরুদ্দোজা,পৌর সেক্রেটারী আবদুল মান্নান, শিবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও নাশকতার আশঙ্কায় সোনাগাজী মডেল থানা এলাকা, উপজেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। তবে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ সুভাষচন্দ্র পাল জানান, অবরোধ চলাকালে সোনাগাজী কোথায় কোন প্রকার বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা জোরদারের  ল্েয বিভিন্ন স্থানে পুলিশের টহল ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।