মনোহরগঞ্জে পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষ: নিহত ০১ গ্রেপ্তার ০৫

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজ করে ফাঁসির রায় পূনর্বহালের প্রতিবাদে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রেল লাইনের ফিশপ্লেট খোলার চেষ্টা ও বাজারে দোকান-পাট ভাংচুর চালিয়েছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা।  বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বিপুলাসার ও নাথেরপেটুয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ওই বাজারের অন্তত ২০টি দোকান ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন নামক এক শিবির কর্মী নিহত এবং ১২ পুলিশসহ অন্ততঃ ৫০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ২ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। এতে পুরো এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তার দু’পাশে শত শত গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

জানা যায়, ওইদিন বিকেলে কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজ করে ফাঁসির রায় পূনর্বহালের প্রতিবাদে স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিপুলাসার ও নাথেরপেটুয়া এলাকায় রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলার চেষ্টা করে। এসময় বাজারের দোকানপাট ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের  সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ১জন নিহত সহ সংঘর্ষে ১২ জন পুলিশসহ অন্ততঃ ৫০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে শিবিরের আলম, হুমায়ুন ও মোর্শেদসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়।

রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে জামায়াত-শিবিরের উপর গুলি বর্ষণ করে। ওই সময়ে প্রায় ২ শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।  আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মনোহরগঞ্জ থানার ওসি হারুন-অর-রশিদ চৌধুরি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।