এবার এরশাদকে নিয়েই নতুন নাটক

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে ধূম্রজালের সুষ্টি হয়েছে। র‌্যাববের দাবি, এরশাদ অসুস্থ বোধ করায় তাকে সিএমএইচে নেয়া হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ রাতেই হাসপাতাল ছাড়তে পারেন এরশা।

এদিকে নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ।

বৃহুস্পতিবার রাতে আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার পর দেশজুড়ে যখন এক ধরনের উত্তেজনা চলছিল, তখন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আকস্মিকভাবে বারিধারার বাড়ি থেকে এরশাদকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব। এ সময় তার সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তির ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়।

সন্ধ্যার পর থেকে এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থান করা নেতা-কর্মীরা বলছেন, এরশাদ কোনোভাবেই অসুস্থ ছিলেন না। তার রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভরায় রাতে সাংবাদিকদের জানান, তিনি বৃহস্পতিবার যতক্ষণ ছিলেন, জাপা চেয়ারম্যানকে অসুস্থ দেখেননি।

তবে রাত সোয়া দুইটায় গুলশানে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার জানান,  এরশাদ সিএমএইচে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুস্থ হলেই বাসায় ফিরবেন। এরশাদের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “তাকে আটক করা হয়েছে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়নি।”

আগামী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে টানাপোড়েন ছিল জাপা চেয়ারম্যানের। তিনি একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি সরকারের তরফে ভীষণ চাপের মধ্যে আছেন। তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আর এ জন্য তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা ‍কিংবা সরকার কোনো চালাকি করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। একটি পিস্তল লোড করা আছে বলেও জানিয়েছিলেন এরশাদ।

এরশাদের এই চিকিৎসা কিংবা আটকের ঘটনায় দেশেজুড়ে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র মতামত পাওয়া যাচ্ছে।

জাপা চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভরায় বলেন, “টেলিভিশন চ্যানেলের স্ক্রল চেয়ারম্যান স্যারের আটকের খবর দেখে আমি প্রেসিডেন্ট পার্কে ছুটে যাই। গিয়ে শুনি, চেয়ারম্যান স্যার হাসপাতালে গেছেন। এরপর আমি সিএমএইচে ছুটে যাই। কিন্তু আমাকে গেটে আটকে দেয়া হয়।”

জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ জানান, এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাতে র্যাতব তাকে নিয়ে যাওয়ার এরশাদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়েছে হয়েছে বলে জানান জাপার একজন নেতা, যিনি ঘটনার সময় এরশাদের বারিধারায় বাসায় ছিলেন।

জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতা ফয়সাল আতিক সাংবাদিকদের বলেন, জাপার বিভিন্ অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১০০ নেতাকর্মী প্রেসিডেন্ট পার্কে ছিলেন। রাত ১১টার পর হঠাৎ পেছনের ফটক দিয়ে র্যা ব-পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য বাড়িতে ঢুকে এরশাদকে তুলে নিয়ে যান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার মহাসচিব হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি রাতে দীর্ঘক্ষণ তার (এরশাদ) বাসায় ছিলাম। আরো অনেকেই ছিল। এরপর আমি  চলে আসি।” বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পর এরশাদের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান বলে জাপার মহাসচিব জানান।

জাপা মহাসচিব বলেন, “হাসপাতালে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ।” কী অসুখ হয়েছে জানতে চাইলে হাওলাদার বলেন, “এটা ডাক্তাররা ভালো বলতে পারবেন। আমি আপনাদের একটা কথা বলতে চাই, তাকে আটক করা হয়নি।”

র্যা বের উপস্থিতির বিষয়ে হাওলাদার বলেন, “উনি সেনাপ্রধান ছিলেন, রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সব সময়ই প্রটোকল পেয়ে আসছেন। আজ্ও প্রটোকল নিয়ে সিএমএইচে গেছেন।”
এরশাদকে নিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।

দলের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব কে পালন করবেন, জানতে চাইলে হাওলাদার বলেন, “দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

এরশাদের এই ‘অসুস্থতার’ আগেই রাতে জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাড়ি গণভবনে বৈঠক করেন।

এ সময় রুহুল আমিন হাওলাদার, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু ও সালমা ইসলাম ছিলেন। এর আগে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশন এরশাদও সন্ধ্যার পর গণভবনে যান ।

আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৫ জানুয়ারির ভোটে অংশ নেয়ার জন্য ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু এর পরদিনই এরশাদ এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, বিরোধী দল বিএনপিসহ সব দল না আসায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে না। এরপরই সরকারের সঙ্গে এরশাদের টানাপোড়েন শুরু হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।