রায়পুরে আ’লীগ, যুবলীগ-জাপা নেতাদের হাসপাতাল, বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ২০-২৫ জনের সশস্ত্র শিবির কর্মীরা আ.লীগ, যুবলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের হাসপাতাল, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় নগদ দুইলাখ টাকা, আসবাবপত্র লুটসহ ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন। এঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে শুক্রবার জুম্মার পরে ১৮ দলের নেতা কর্মীরা কাদেও মোল্লাসহ নিহত নেতাকর্মীদের জন্য আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে দেড় সহ¯্রাধিক নেতাকর্মীদেও উপস্থিতিতে গায়েবানা জানাজা হয়। পরে তারা লক্ষীপুরে ৫ নেতাকর্মী নিহতের ঘটনায় জেলাসহ ৫ উপজেলায় শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাহার ও পৌর যুবলীগের আহবায়ক শামছুল ইসলাম বাবুলের মালিকানাধিন সেবা হাসপাতাল (প্রাঃ), উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহানের চরপাতার গ্রামের বাড়ী, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকনের বাসা, পৌর আ’লীগের আহবায়ক জামসেদ কবির বাকী বিল্লার মালিকানাধিন জাকের বস্ত্র বিতান ও যুবলীগ নেতা মোঃ মিনারের লেংড়া বাজারস্থ ভাড়া বাসা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, মানবতাবিরোধি অপরাধের মামলায় মৃত্যূদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পরেই রায়পুরে ২০-২৫ জনের সশস্ত্র শিবির ক্যাডার রাত ১০টার পর থেকে ১২টা পর্যন্ত সেবা হাসপাতাল ভাংচুর, আ’লীগ নেতা বাকী বিল্লার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ, ইসমাইল হোসেন খোকনের বাসার জানালার গ্লাস ভাংচুর, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহানের বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ করে। খবর পেয়ে শাহাজাহান বাড়ির সামনে এসে শিবির ক্যাডারদের ৫ রাউন্ড গুলি করলে তারা চলে যায়।  এদিকে-জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের অঘোষিত অবরোধের কারণে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়কের ভূইয়া রাস্তা, রায়পুর-হায়দরগঞ্জ সড়কে মিতালীবার ও লক্ষীপুর-চাদপুর অঞ্চলিক মড়াসড়কের শ্রমিকবিড়ির ফ্যাক্টিরি সামনে ও খাইল্লার পোল নামক স্থানে সড়কের মাটি কেটে এবং মোটা গাছ ফেলে রাখায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে শিবিরের কর্মীরা। এতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লঞ্চ ও বাসযোগে আসা শত শত মানুষ  চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালে আটকা পড়ে আছেন। অনেকে হেটে তাদের গ্রামের বাড়িতে আসছেন।
যোগাযোগ করা হলে, আ’লীগ, জাপা ও যুবলীগ নেতারা বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার আগেই আমাদের উপর হামলার ভয়ে বাড়ি ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আতœগোপনে চলে যাই। শুক্রবার সকালে খবর পাই বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলগুলোতে আসেনি।
রায়পুর শিবিরের পৌর শাখার সভাপতি মোঃ ফজলুল করিম জানান, আ;লীগ নেতাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শিবিরের কোন নেতাকর্মী হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেনি। তারা আমাদেও বিরুদ্দে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপক কুমার সাহা বলেন, এ ঘটনা ক্ষতিগ্রস্ত নেতারা অবহিত করেছেন। অবরোধকারিদের দ্বারা সড়ক কেটে ফেলা ও মোটা গাছ সড়কে রাখার ফলে কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। এর পরও নেতাদের শান্তনা দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।