লক্ষ্মীপুরে র‌্যাবের গুলিতে জামায়াতের নায়েবে আমির নিহত

জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডাঃ ফয়েজ আহমেদ (৬০) গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার পরিবারের অভিযোগ র‌্যাবের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী বাসস্ট্যান্ডের কাছে নিহতের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামায়াত নেতা জেলার রামগঞ্জ উপজেলার লামচরী ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাঁটবাড়ীর জয়নাল আবদীনের ছেলে। তিনি শহরের আধুনিক হাসপাতালের মালিক বলে জানা গেছে।

নিহত ডাঃ ফয়েজের স্ত্রী জেলা জামায়াতের মহিলা সভানেত্রী মার্জিয়া খাতুন ও  ছেলে বেলাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি- শুক্রবার রাতে তার নিজ বাসা কাউসার মঞ্জিলের সামনের লোহার গেইট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে র‌্যাব পরিচয়ে অভিযান চালায়। এসময় তারা জামায়াত নেতা ডাঃ ফয়েজকে আটকসহ তার ছেলে বেলালকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে কোনো মতে বেলাল প্রাণ রক্ষা পেলেও র‌্যাব সদস্যরা ডাঃ ফয়েজের হাত-পা বেঁধে তিন তলা বাসার ছাদে নিয়ে সেখান থেকে নিচে ফেলে দেয়। এরপর র‌্যাব সদস্যরা তাকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

পরে পুলিশের সহায়তায় র‌্যাব সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে নেয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তবে ডাঃ ফয়েজ আহমেদ কিভাবে মারা গেছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব-পুলিশের টইল জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে র‌্যাবের একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো বক্ত্যব পাওয়া যায়নি।

জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যারত ডাক্তার জয়নাল আহমেদ সংবাদিকদের বলেন, রাত আনুমানিক ২টার দিকে কে বা কারা একটি গাড়িতে করে তার মৃত্যুদেহটি হাসপাতালে রেখে যায়। তবে নিহতের মাথায় ও ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ভোরে একই কায়দায় র‌্যাব সদস্যরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সাহাবুদ্দিন সাবুর বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় সাবুর পায়ে গুলি করে তার ভাই বাচ্চুসহ দুই জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় শহরের চকবাজারে অবরোধের সমর্থনে চলা বিএনপির মিছিলে গুলি চালায়।

এ নিয়ে র‌্যাব-অবরোধকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে শহর জুড়ে রণক্ষেত্র পরিণত হয়। দিনভর এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ৬০জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহত হন। ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুরেই জেলা বিএনপি’র প্রতিবাদে আজ শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয়। আজ এ হরতাল চলছে। তবে ওই ঘটনার পর এখনও জেলা জুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব-পুলিশের টইল জোরদার করা হয়েছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মনিরুজ্জামান এবং ডিআই ওয়ান কবির হোসেনকে সরকারি বিশেষ এক আদেশে ক্লোজ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।