রায়পুরে বিএনপির হরতাল পালন জামায়াতের গায়েবানা জানাযা-বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুর সদরে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীকে হত্যা ও  ২৫ জনকে গুলির প্রতিবাদে রায়পুর উপজেলায় শনিবার (১৪ডিসেম্বর) সকাল-সন্ধা হরতাল পালন করছে দলটি। সারাদিন ও রাত ওষুধের দোকান ও খাবার হোটেল ছাড়া শহরের প্রায় তিন শতাধিক দোকান পাট বন্ধ ছিল। এছাড়া জেলা জামায়াতের আমীরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টায় জামায়াত-শিবিরের ৩ সহস্রাধিক নেতাকর্মী শহরে সাবরেজিষ্ট্রার মসজিদের সামনে প্রধান সড়কে গায়বানা জানাযা পড়েন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিভিন্ন সড়কে  মোটা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ ছাড়া কোথায় কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনি।

বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন এবং জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন উপজেলা জামায়ত নেতা হাবিবুর রহমান মিন্ট, মোঃ ইসমাইল মাস্টার, শাহাজাহান পাটওয়ারী, নুরুল আমিন দেওয়ান, মোঃ ফজলুল করিম, মোঃ আলী হোসেন, মোঃ আবুল কাশেম ও শিবির নেতা মোঃ ফজলুল করিম, আশরাফুল ইসলাম রাসেল ও চাঁদপুরের দুই নেতাসহ তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রায়পুর শহরের ব্যবসায়ী সাইফুদ্দিন, হারুন ও জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন বলেন, রায়পুরের ইতিহাসে এই প্রথম বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায় তিনশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে হরতাল পালন করেছে। এতে করে ব্যবসা ধস নেমেছে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন বলে জানান।

জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান মিন্টু বলেন, সরকার আমাদের নিরোপরাধ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে হত্যা নির্যাতন করছেন। আমাদের মুখোমুখি হামলা করলে তার পালটা জবাব দেওয়া হবে। রোববারের দেশব্যাপি হরতালের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়পুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রূপক কুমার সাহা বলেন, জেলা বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধা হরতালে রায়পুরে কোন সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে শহরের পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার র‌্যাবের গুলিতে বিএনপি ও জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী নিহত এবং জেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক শাহাবুদ্দিন সাবুসহ ২৫ নেতাকর্মী গুলিবৃদ্ধ হয়। শুক্রবার রাতে র‌্যাবের গুলিতে জেলা জামায়াতের আমীর ও আধুনিক হাসপাতালের মালিক ডাক্তার ফয়েজ আহম্মদকে হত্যার ঘটনা ঘটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।