নিখুঁত ভালবাসা-মাকড়সার জালে বন্দী!

২৭ নভেম্বর থেকে উত্তপ্ত লাকসাম। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মাঝে চলছে নেতা-কর্মীদের জীবন যাপন। কঠিন হিংসার, নোংরা রাজনীতির শিকার তাঁদের প্রকৃত অভিভাবকদ্বয়। রাতের আধারে কমান্ডো ষ্টাইলে হাইজ্যাক। হদিস মিলছেনা। ইস্পাত হৃদয়হীনদের সাহসী অভিযানে খুশী পর্দার অন্তরালে থাকা নাটের গুরুরা। ওরা হাসে অট্টহাসি। কাল্পনিক পাষাণীদের গল্প শুনে সবাই। কিন্তু বাস্তব পাষানদের বাস্তবিক পাষাণী কর্মকান্ড কেউ দেখেনা। সবাই তালের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। নেতা-কর্মী ও আমজনতার হৃদয়ে সত্য মিথ্যার ভাংচুর হচ্ছে। ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোর মতো কিছুতেই জোড়া লাগছেনা। ঐ চোখে মুখে বেদনার নীল প্রশ্ন? কেন এই স্বার্থপরতা? কি অপরাধে অপরাধী হিরু-হুমায়ন? হিরু-হুমায়ন ব্যাতীত লাকসামের সত্যিকার ইতিহাস কি করে লেখা সম্ভব? কলংক জনক অধ্যায় রচনার রচয়িতা কে? বিগত দিনে লাকসামে এতো সব উন্নয়ন? এতো গনজাগরন? এতো আকাশ ছোঁয়া বিশ্বাস? এতো নিখুঁত ভালবাসা বাসি-কেন আজ মাকসড়সার জালে বন্দী? মুখরিত জীবনের আড্ডা-আলাপ-আলোচনা সব কিছুই কি আজ মিছে ছলনা? প্রশ্ন অনেক  উত্তর গোলক ধাধার মত জটিল। হিরু-হুমায়নের মাকড়সার জালে বন্দী থাকাকে হাতনেড়ে বিদায় বলে বিসর্জন দিতে পারিনা-নিজের বিরবেকের কাছে ধরাশায়ী। আমি নির্বাক, আমি বিচলিত, সত্যিকার অর্থে আমি প্রতিবাদী।

লাকসামের স্বরণ কালের ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা কিছুতেই কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়। আগামীর পথ চলা বড়ই কঠিন। আমি রাজনীতি করিনা-কিন্তু সামাজিকতার সাথে শৃঙ্খলবদ্ধ। মানবিক দৃষ্টিতে আমাকে বার বার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরবর্তী-বার্তা অনুভব করতে হচ্ছে। সাইফুল ইসলাম হিরু লাকসামের জন্য একজন প্রকৃত অভিভাবক, এক বাক্য এটা সবাই স্বীকার করে। হিরুর অপলক দৃষ্টি যেন বিধাতার অলৌকিক সৃষ্টি। চোখের ইশারায় যে নাকি অন্যের সুবিধা-অসুবিধা নিমিষেই বুঝতে পারেন। প্রমান-আমার পারিবারিক একটি কাজে-চায়ের আড্ডার গোল টেবিলের মাধ্যমে।

লাকসাম মনোহগঞ্জের আকাশে আজ কালো মেঘের হাতছানি। হঠাৎ বিজলীতে উদাও হয়ে গেলো দু’টি সুখতারা। যাহা কল্পনাকেও হার মানায়। সংগ্রামী জনতা হতবাক, বিস্মিত, বিক্ষুব্দ হয়ে প্রতিদিন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর উপচে পড়ছে গ্রাম-গঞ্জের মেটোপথ থেকে শুরু করে রাজপথের শাঁকে-শাঁকে। পরিবার পরিজনের বুক ফাঁটা করুন আর্থনাদ। দু’চোখের অশ্রুতে যেন রক্তজল বইছে। অপ্রাসঙ্গিক ভরসার মাঝে পথ চলা। প্রশাসন নীরব নিস্তুর। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার বদৌলতে জানা গেছে-হিরু-হুমায়নের নিখোঁজ প্রশাসনের অজানা। তবুও সুশীল সমাজ, ব্যবসায়িকদের পক্ষ থেকে প্রশাসন কার্যালয়ে স্বারক লিপি প্রদান এবং সাবেক এমপি কর্নেল (অবঃ) এম আনোয়ারুল আজিমের নেতৃত্বে বি,এন,পি তথা ১৮দলীয় ঐক্যজোট থেকে এখনও বিভিন্ন কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে। হিরু-হুমায়ন প্রকৃত অর্থে অপরাধী হলে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে আয়ত্তে এনে বিচার হওয়াটা ছিল শোভনীয়। কিন্তু আজ আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে নিজেরাই আইনের শাসক বনে যাচ্ছি। ক্ষতিকর রাজনীতির হিসাব-নিকাশ করতে করতে ভুলে যেতে বসেছি মানুষ-মানুষের জন্য। কু-পরামর্শের মায়াবী ফাঁদে পড়ে ভালবাসা-বাসি ভাগ করে দিচ্ছি। দরদী বন্ধু হয়ে আজ জাতশত্রুর মতো নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছি। এই অভিলাষী মনের চাওয়া পাওয়ার শেষ কোথায়? সাধারণ জনগন অসহায়! বুক ফাঁটে তবুও মুখ ফোটেনা। এই বোবা-কান্নার অভিশাপ একদিন তিলে তিলে নদী হয়ে বিষাক্ত সাগরের পানিতে রূপ নিবে। সেদিন বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসীদের লুকো চুরির খেলায় সবাইকে হাবু ডুবু খেতে হবে।

হিরু-হুমায়নের পরিবার লাকসাম মনোহরগঞ্জ বাসীর জন্য অহংকার। পারিবারিক ঐতিহ্যের শিকড় অনেক উঁচুতে। অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার কোন উপায় নেই। অতীত প্রমান করে হিরুর পিতা মৃত আলহাজ চাঁন মিয়া  ছিলেন উজ্জ্বল সমাজ সেবক। রাজনীতির পথে না হেটেও মানুষের কল্যাণে সমাজে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। পিতার মৃত্যুর পর হিরু পিতার আসনকে আর্দশিত করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেকে মনোনিবেশ করেন। এরই সূত্র থেকে একসময় এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে লাকসাম উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও লাকসাম বাজারের বনিক সমিতির সভাপতি পদে আজও অধিষ্ট হয়ে আছেন। প্রচলিত আছে লাকসাম মনোহগঞ্জের মানুষ শান্তি প্রিয়, এখানে রাজনীতির মাঠে রক্তের হলি খেলা চলেনা। সমোঝোতাটা যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি শিকলে আবদ্ধ। নোংরা পরিবেশ কখনো দেখা যায়নি। বহুদিন-বহুবছর পর আজ বিশ্বাসের মাঝে অবিশ্বাসের ছোঁয়া লেগেছে। সুখের সংসারে তুষের আগুন জ্বলেছে। সামাজিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ঘরের খুঁটিতে ধীরে ধীরে গুনে পোকা ঘরটি বুকের পাজরে ভেঙ্গে পড়েছে। রাজনীতিবিদদের মাঝে এখন সরব-নিরব ভাঙ্গা-গড়ার খেলা চলছে। রাজপথ দখলে হিংস্রতা খুন-খারাপি মিছিল মিটিং দুর্বার গতিতে চলছে। রাজনীতির সন্ধির সেতু বন্ধনে ফাটল ধরেছে। পাপের স্রোতে আজ আমরা নিরুদ্দেশ সাগরে ঝাপ দিয়েছি। সুন্দর লাকসাম আগামীতে অসুন্দরের প্রতীক হয়ে আসছে। সন্দেহ নেই- হিরু-হুমায়নের সরলতার সুযোগেই আজ গরলতার আর্বিভাব।

উপসংহারে- সাধারণ জনগনের চিন্তা চেতনা অত্যন্ত সহজ সরল, ওরা রাজনীতির গ্যাড়াকলের হিসাব-নিকাশ বুঝে না। সমাজ-সামাজিকতা ওদের হৃদয়ে নাড়া দেয়। ইতিহাসকে ওরা মূল্যয়ন করে। ওরা স্বাধীনতাকে নিয়ে গর্ব করে। অনেক রক্তের বিনিময়ে এই দেশের স্বাধীনতা। ওদের প্রশ্ন-স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ কি করে রাতের আঁধারে গুম হয়ে যায়। ওরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ব করতে চায় না। আইন শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে জানিয়ে দিতে চায়, ওদের প্রান প্রিয় নেতাদের সঠিক সন্ধান। ওরা অভিভাককহীন লাকসাম চায় না। চায় শুধু একটু আশার আলোর মাঝে স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে। ওরা সঠিক নেতৃত্বের পিছনে পথ চলতে চায়, কেননা সময়ের হাত ধরে রাজনীতির অঙ্গনের প্রেক্ষাপট ওদের হাতেই সৃষ্টি হবে আগামীর জনপ্রতিনিধিত্ব। ওদের আটুট বিশ্বাসী  হৃদয়ে হিরু-হুমায়নের সে রাতের চলে যাওয়া শেষ চলে যাওয়া নয়, আবার আসবে ফিরে, আবার হবেতো দেখা, বুকের আলিঙ্গনে জড়িয়ে বলা হবে না-বলা অনেক কথা। শুভ বার্তার প্রত্যাশায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।