মাসিমপুরে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল-পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা !

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সিমান্তবর্তী উপজেলার মাসিমপুর গ্রামের আক্তারেজ্জামান (৭০) নামে এক অসুস্থ বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার ৪৩ শতাংশ জমি প্রতারনা মাধ্যমে দখল ও পরিবারকে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে এক প্রভাবশালী স্কুল কেরানী নুরনবির (৩৫) নামে এক অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্থানীয় কয়েক লাঠিয়াদের দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার চাচাত ভাইয়ের কাছ থেকে দলিল সৃজন করে পরিবারকে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছেন। এঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়েছেন।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা আক্তারেজ্জামান তার চাচাত ভাই বগুড়া জেলা নিবাসি মন্তাজ মিয়ার কাছ থেকে ৪৩ শতাংশ জমি কিনে নেন। সেই থেকে পরিবার নিয়ে আক্তারেজ্জামান রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মাসিমপুর গ্রামের বসত বাড়ী করে বসবাস করছেন। এর মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে প্রায় ২ বছর ধরে তার মেয়ে মুনির ঢাকার জিগাতলার বাড়া বাসায় থেকে ইবনে সিনার মানুষিক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসায় নিচ্ছেন। এ সুযোগে কয়েকদিন আগে তাদের পাশ্ববর্তি রায়পুরে ডেকোরেটার ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের ছেলে প্রভাবশালী অসাধু ব্যক্তি রায়পুর এলএম পাইল্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় দানকারী অফিস সহকারী মো. নুর নবী প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে বগুড়া গিয়ে ওই জমির দলিল নকল করে। এবং সেই জমি দখলে নিতে ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে লাঠিয়ালদের মাধ্যমে বাসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে। কেরানীর ও তার পরিবারের হাত থেকে মুক্তিযোদ্ধার দলিল উদ্ধার করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
এদিকে মাসিমপুর বাজারের ব্যবসায়ী সুমন জমদার ও সোহাগসহ কয়েক এলাকাবাসী জানান, কেরানী নুরনবী একজন ঠকবাজ, প্রতারক ও অসুধু ব্যক্তি হন। সুমজন জমদ্দারের কাছ থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নেওয়া, এ টাকা চাইলে না দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ননজডিশিয়াল সাদা ষ্টাম্পে দস্তখত নিয়ে ছেড়ে দেয়। অতপর এঘটনায় আদালতে মামলা হলে তা থানা পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সমাধান হয়। ব্যবসার নামে প্রতারণা করে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ব্যবসার নামে নুরনবী ব্যবসায়ী সোহাগের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে তা না দিয়ে নিজের নাম দিয়ে অন্যর চেকের এনে দেয়। পরে ব্যাংকে গেলে দেখেন তিনি প্রতারনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি আজও নুরনবীর কাছ থেখে টাকাগুলো পাননি।

আরেক ক্ষতিগস্থ স্বপন নামে ঢাকার এক চাকুরীজিবি বলেন, প্রতারণ নুরনবী তার বোনের নামে প্রতারণা করে পিতার ও ভাই দের সকল সম্পতি জাল দলিল সৃজন করে আত্মসাত করে। এঘটনায় তারা মামলা করলে স্থানীয় দের মাধ্যমে তা মিমাংশা হয়।

মাসিমপুর গ্রামের মো. ইউসুফ গাজী নামের এক স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, নুরনবী একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে নিজ পরিবারসদস্যসহ এলাবাসীর অনের অভিযোগ রয়েছে। অনৈতিক কর্মকান্ডের ও ভূয়া শিক্ষা সনদপত্রের কারনে মাসিমপুর স্কুল থেকে অবহতি দিলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রায়পুর এলএম পাইল্ট উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে কেরানির চাকুরী নেয়। কেউ এর প্রতিবাদ করলে স্কুল শিক্ষকের ভয় দেখায় এবং নানা ধরনের মিথ্যা মামলা করে প্রতিপকে হয়রানি করে।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত কেরানী নুরনবী বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধার চাচাত মন্তাজ মিয়ার কাছ থেকে দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করি। ব্যবসায়ীদের সাথে ছোট খাট সমস্যা হয়েছে তা মিটে গেছে। আমি গ্রামের মানুষের সাথে না মিশায় তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান চৌধুরী অভিযোক্ত নুরনবীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অভিযোগের সত্যতা শিকার করে বলেন, নুরনবী ভাল ব্যক্তি নন। সে গ্রামের মানুষের সাথে জমি ও টাকা দিয়ে প্রতারনা করে হয়রানি করছে। তাই ভূমিদস্যু নুরনবীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীু। তাকে কয়েকবার সতর্ক করার পরেও সে শুনছেনা।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান বলেন, মাসিমপুর গ্রামের নুরনবী নামের ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।