রায়পুরে ছাত্র-যুবলীগ নেতাদের হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৯দিনেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে  ছাত্রলীগ নেতা ও যুবলীগ কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা এবং তিন নেতাকে কুপিয়ে মারাত্বক জখম এবং হাসপাতাল, আ’লীগ নেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত ৯ দিনেও পুলিশ ঘাতকদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এসব ঘটনায় কোন ঘাতকদের গ্রেপ্তার না করায় এবং সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের নির্বিকার ভুমিকায় পরিবার, দলের নেতাকর্মীরা ও রায়পুরবাসী চরম উদ্বিগ্ন রয়েছেন।
এলাকাবাসী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ১৪ ডিসেম্বও বিকালে রায়পুর- মিরগঞ্জ সড়কে ভাটের মসজিদ সংলগ্ন সড়কে জেলা যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজকে এলোপাথারি কুপিয়ে হত্যা কওে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৭/৮ জনের মুখোশপরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এসময় মিরাজের সাথে থাকা মাসুদ নামে যুবলীগ কর্মীকেও কুপিয়ে জখম করে। এঘটনায় মিরাজের পিতা আবুল কালাম বাদি হয়ে কেরোয়া ইউনিয়নের লুধুয়া গ্রামের ১১ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।  গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর ইউনিয়নের কিরণ পাঠান নামে এক যুবলীগকর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে একই এলাকার দুলাল পাঠান ও শাহজাহানসহ ৫-৬ জনের অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় মুল আসামীদের বাদ দিয়ে এক প্রভাবশালী আ.লীগ নেতার হস্তক্ষেপে নিহত কিরণের ভাই জাহাঙ্গীর পাঠান বাদি হয়ে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামী কওে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও গত ১১ ডিসেম্বর রাতে  রায়পুর-হায়দরগঞ্জ সড়কে সোলাখালী ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের উপড় ১০/১২ জনের মুখোশপরা  সন্ত্রসী   পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মহি উদ্দিন বিপুকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।  স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মারুফ-বিন জাকারিয়া ও পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শিহাব ওই আহত নেতাকে দেখতে গেলে ২০/২৫ জনের শিবির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে তাদেরকে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে। এসময় শিবিরকর্মীরা টিএইচও, ডেন্টাল সার্জনের কক্ষ সহ দুটি এ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এঘটনায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করে। এছাড়াও অজ্ঞাত দুবৃত্তরা উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা মোঃ শাহজাহান বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ, জামশেদ কবির বাকী বিল্লাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর অগ্নিসংযোগ, ইসামাইল হোসেন খোকন বাড়ী ভাংচুর, জাতিয় পার্টির নেতা আনোয়ার হোসেন বাহার ও যুবলীগ নেতা শামছুল ইসলাম বাবুলের মালিকানাধিন সেবা হাসপাতাল ব্যাপক ভাংচুর করে। আহত নেতারা বর্তমানে ঢাকা বক্ষব্যাধি ও বাংলাদেশ মেডিকেলে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকন বলেন, বর্তমান দেশের পরিস্থিতির সুযোগে জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা দলের নেতাকর্মীদের নিশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, জখম ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে এসম ঘটনার প্রতিকারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দুকে অবহিত করা হয়েছে। ঘাতকদের গ্রেপ্তারের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ৮ দিনেও ঘাতকরা গ্রেপ্তার না হওয়া আমরা উদ্বিগ্ন রয়েছি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপক কুমার সাহা বলেন, দুই নেতা নিহতের ঘটনায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জামায়াত-শিবিরের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতদের আসামী করে পৃথক মামলা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা ও অভিযোগগুলো তদন্ত চলছে এবং আসামীদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।