মহেশখালীতে ব্যাংক দালাল গণপিঠুনির স্বীকার: ম্যানেজার কাতেবীর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

মহেশখালী সোনালী ব্যাংকে দালাল চক্র সক্রিয় বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই দালাল চক্রের সদস্যরা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ সরল মানুষদের ব্যাংক ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছে নির্ভয়ে। উক্ত দালাল চক্রের সাথে মহেশখালী সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার নুরুল আমিন কাতেবীর সহ্যতা রয়েছে বলে সূত্রে জানায়। এদিকে ঋণ প্রতারণার দায়ে ২২ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে গোরকঘাটা বাজারস্থ ইসলামিয়া হোটেলের সামনে গণপিটুনির স্বীকার হন মুন্সির ডেইল এলাকার কসাই আব্দু’র ছেলে দালাল মাহাবুব, জাফর সহ আরো কয়েকজন।

ওই সময় অভিনব উপায়ে দালাল চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা জানান, সোনালী ব্যাংকের কৃষি ঋণ প্রস্তাবের সময় ফরমে সাড়ে ১৩ হাজার টাকার ঋণ পাশ করা হয়। ওই টাকার মধ্যে ব্যাংক ম্যানেজার দালাল চক্রের সদস্যরা ভাগ বাটোয়ারা করে ঋণ গ্রাহককে দেওয়া হয় আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই সহজ সরল মানুষদের এভাবে ঠকিয়ে নামে বেনামে বহু জায়গা সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছে ব্যাংক ম্যানেজার কাতেবী সহ দালাল চক্রের সদস্যরা। এদিকে তাদের কুকর্ম ডাকার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর খুরশিদা আক্তার বেবীকে। অন্যদিকে আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে সাড়ে ১৩ হাজার টাকার ঋনের বোঝা বহন করে আসছে ভুক্তভোগী দরিদ্র ও অসহায় জনসাধারণ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উক্ত দালাল চক্রের সদস্যরা ঋণ দেওয়ার নামে প্রতিজনের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে অগ্রীম নেওয়া হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু মাসের পর মাস ঘুরাঘুরি করেও ঋণ পাচ্ছেন না অসহায় এই জনসাধারণ। এদিকে ঋণ গ্রীহিতাদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দালাল চক্রের সদস্যরা। হঠাৎ কোন না কোন স্থানে দেখা হলে এই দালালরা বিভিন্ন বাহানা দিয়ে বেঁচে যায়। কিন্তু ঋণ গ্রীহিতারা অপেক্ষা করতে করতে সহ্য করতে না পেরে গণপিটুনি দেয় দালাল চক্রের সদস্যদের। সুত্রে জানায়, মহেশখালী ব্রাঞ্চের সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নুরুল আমিন কাতেবী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ঘুষ গ্রহণের অহরহ অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর কোন প্রতিকার পায়নি সাধারণ মানুষ।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যাংক ম্যানেজার নুরুল আমিন কাতেবীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করে কোন লাভ নেই। আমি যত যাই কিছু করিনা কেন- এই অপকর্ম ডাকার জন্য উপরে আমার লোক আছে বলে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেয়।

এদিকে গণপিটুনির স্বীকার দালাল চক্রের সদস্যরা গণমাধ্যমে তাদের অপকর্ম সংবাদপত্রে প্রকাশ না হওয়ার জন্য দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীদের টাকার বিনিময়ে মুখ বন্ধ রাখার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিলা কাউন্সিলর খুরশিদা খানম বেবির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমার এলাকার কেউ ঋণ নিলে আমি তার জন্য সুপারিশ করি এবং সহজে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিই।
সচেতন মহলরা জানান, দুর্নীতিবাজ এই ব্যাংক ম্যানেজার কাতেবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দালাল চক্র সহ দুর্নীতি আরো বৃদ্ধি পাবে। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ ম্যানেজারকে বদলী সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছেন মহেশখালীর সচেতন মহল। সচেতন মহলরা আরো জানান, দুদক তার সম্পদের হিসাব ও ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করলে বেরিয়ে আসবে তার দুর্নীতির চিত্র।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।