লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই নানা রোগে আক্রান্ত

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই নানা রোগে আক্রান্ত। ডাক্তার সংকট, জনবল সংকট, অপারেশন থিয়েটার বন্ধ, এক্সরে- এ্যাম্বুলেন্স বিকল, রোগীর সাথে অসদাচরন, ডাক্তারের অনুপস্থিতিসহ নানা কারনে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। লাকসাম-মনোহরগঞ্জ ও সদর দণি উপজেলার জনসাধরনের  চিকিৎসা সেবার জন্য একমাত্র ভরসা লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

এ হাসপাতালটি গত বছরের ২৬ ফেব্র“য়ারী ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ চিকিৎসা কর্মকর্তার ২১ টি পদ রয়েছে। তন্মধ্যে মেডিসিন, সার্জারী, এনেসথেসিয়া, অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞসহ ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসা কর্মকর্তার ৭টি পদের মধ্যে ৬টি পদই শূন্য। এ হাসপাতালে বহিঃ ও জরুরী বিভাগে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩’শ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৫টি সেবিকার পদের মধ্যে ৬জন, স্বাস্থ্য সহকারী ২৮টি পদের মধ্যে ১৫ জন, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৩টি পদের মধ্যে ১ জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৭টি পদের মধ্যে ৫জন রয়েছে। ফার্মাসিষ্ট  পদে কোন লোক না থাকায় পদটি শূণ্য রয়েছে। অফিস সহকারী ৫টি পদের মধ্যে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান অফিস সহকারী, হিসাবরক, অপারেশন থিয়েটার সহকারী ও ক্যাশিয়ার পদে জনবল না থাকায় ৪টি পদ শূন্য রয়েছে। ওয়ার্ড বয় ৩ জনের পরিবর্তে ২ জন, এমএলএসএস পদে ৪জনের পরিবর্তে ২জন এবং ঝাড়ৃদার ৭টি পদের মধ্যে ৪টি পদে শূন্য। যারফলে অধিকাংশ সময় পরিচ্ছনতার অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে।

লাকসাম উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন এবং সদর দণি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ লাখ লোকের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র  ভরসা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পাশ্ববর্তী নবগঠিত মনোহরগঞ্জ ও সদর দণি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হলেও চালু না হওয়ায় এ ৩ উপজেলার জনসাধারনের স্বাস্থ্যসেবার জন্য লাকসাম উপজেলা কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসে। এ হাসপাতালে দু’টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে ১টি অচল রয়েছে। অপরদিকে এক্সরে মেশিনটি সচল থাকলেও রেডিওলজিষ্টের পদটি শূন্য। ডেন্টাল ইউনিটে ১ জন  লোক থাকায় দূর দুরান্ত থেকে রোগী এসে অনেক সময় সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। ৩টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির অভাব এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারনে সেবা না পেয়ে প্রাইভেট কিনিকগুলোতে রোগীরা ভিড় জমাচ্ছে ।  এ সুযোগে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রাইভেট কিনিকে রোগী পাঠিয়ে প্রতিদিন মোটা অংকের কমিশন নিয়ে পকেট ভারী করছে। এ হাসপাতালে একমাত্র জেনারেটরটি প্রায় ৩ বছর যাবত অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকারে থাকতে হয় সকলকে। এ হাসপাতালে দু’টি এ্যা¤ু^লেন্সের মধ্যে একটি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। যে কারণে দূরে মূমূর্ষ রোগী আনা-নেয়ায় ব্যাঘাত  ঘটে।

কর্তব্যরত ডাক্তাররা অধিকাংশ সময়ে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে কর্মরত অবস্থায় সাাতকার দিচ্ছে, আবার কোন কোন সময় নানা অজুহাতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। একাধিক রোগীদের অভিযোগ কখনো কখনো সেবা নিতে গিয়ে ডাক্তারের ব্যবস্থা ফি দেয়া নিয়ে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়াও জরুরী বিভাগের ডাক্তাদের অনুপস্থিতি, ভর্তিকৃত রোগীদের নিম্ন ও অপরিচ্ছন্ন খাবার পরিবেশন, বহিঃবিভাগে ব্যবস্থাপত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসা রোগীরা প্রতিদিন নানা ভাবে হয়রানীর স্বীকার হয়। এনিয়ে কর্মরত ডাক্তার ও রোগীপরে সাথে প্রতিনিয়তই ঝগড়া বিবাদ নিত্যনৈতিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে নাম না প্রকাশের স্বার্থে এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা সালাহ্ উদ্দিন নিজেই মোটা অংকের বিনিময়ে বিদেশগামী ও চাকুরীজীবিদের শারীরিক সমতা সনদ, প্রাইভেট কিনিকে রোগী দেখা এবং কর্মরত অবস্থায় বাসায় বসে টাকা নিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেয়াসহ যাবতীয় অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছেন।

সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী জনগণের দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেয়ার ঘোষনাটি লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ভাবেই কার্যকর হচ্ছে না। সেবা নিতে আশা জনগণের প্রত্যাশা পূরনে সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপ অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে এ  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান আরো নাজুক হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সমস্যার বিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপকে অবহিত করা হয়েছে। জরুরী ও বহিঃ বিভাগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, কর্মরত অবস্থায় ফি নিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।