তাড়াশে ভুয়া দলিলে সরকারি জমি বিক্রি!

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে উপজেলার চলনবিল এলাকার দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামের ভূমিদস্যু তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি জমি থেকে মসজিদ পক্ষ ও দরিদ্র ভূমিহীনদের উচ্ছেদের জন্য মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করে হয়রানির করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে নির্যাতিতরা ভূমিদস্যু তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার চলনবিলের দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামের আরএস ৪৫২ খতিয়ানে মালিকানা বাংলাদেশ সরকার থাকা সত্বেও গ্রামের প্রভাবশালী মৃত আসগর আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেন টেম্পারিং ও জালিয়াতি করে নিজের নামে ভুয়া রের্কডের কাগজ তৈরি মালিকানা দাবি করে আসছে।
পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যলয় থেকে তোলা ৪৫২ নং আরএস খতিয়ানে বড়দা প্রসাদ শুকুল বাবা উত্তানদা প্রসাদ এবং তারা প্রসাদ শুকুল বাবা গৌর চন্দ্র প্রসাদ শুকুল কমলা প্রসাদ শুকুল বাবা কালি প্রসাদ, সাং ও উপজেলা নাটোর জেলা রাজশাহী হাল সাং ভারত পক্ষে বাংলাদেশ উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিসে আরএস খতিয়ানে ভলিয়ম বহিতে দেখা যায় ৪৫২নং খতিয়ানে টেম্পারিং করে বড় অক্ষরে ৪ লেখা নম্বরবিহীন পাতায় সংযোজন কপিতে এবং মালিক হিসাবে তোফাজ্জল হোসেন বাবা আসগর আলী উল্লেখ রয়েছে।
এই জালিয়াতি ও টেম্পারিং আরএসের সূত্রে তোফাজ্জল হোসেন ২০০৪ সালে গ্রামের নিরীহ দরিদ্র দুলাল হোসেন, মইন উদ্দিন, মজনু ও রেজাউল করিমসহ অনেকে জমি কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছে। তোফাজ্জল হোসেন কাছে ভুয়া রেকর্ডে মাধ্যমে তাদের রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু তারা জমির খাজনা ও নামজারি করতে গিয়ে প্রতারণা বিষয়টি ধরা পড়ে।
গ্রামের আব্দুল মান্নান সরকার, আব্দুল মালেক ও ময়েন উদ্দিন জানান, তোফাজ্জাল হোসেন ভুয়া রেকর্ডে গ্রামের রাস্তাঘাট, খাল, পুকুর ও জমির মালিকানা সেজে গ্রামের লোকদের হয়রানি করে আসছে। সরকারি জমি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মসজিদ ভূমিহীনরা ভোগ দখল করে আসলেও সম্প্রতি তোফাজ্জল হোসেন ৩ ভাই তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূমিদস্যু তোফাজ্জল হোসেন বর্তমানে পার্শ্ববর্তী গুরুদাসপুর উপজেলায় চাঁচকৈড় বাজারে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে এবং তাদের ভাই আফজাল হোসেন, আহাদুর রহমান, তাইবুর রহমান মোফাজ্জল হোসেন এই জমি কিছু দখলে রেখেছে এবং কিছু জমি ও পুকুর থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের হয়রানি করার জন্য থানা প্রশাসনের কাছে মিথ্যা অভিযোগ ও আদালতে মামলা করে তাদের হয়রানি করে আসছে।
গ্রামবাসী জানান, এই প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে ভূমি অফিসের কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত রয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ রায়হান কবীর জানান, দক্ষিণ গ্রামবাসীর কাছ থেকে গ্রামের রাস্তাঘাট, পুকুর ও জমি তাইবুর রহমানের পরিবারের বিরুদ্ধে ভূয়া রেকর্ডের অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি যথাযথভাবে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেনকে গ্রামে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।