রায়পুরে অবরোধকারীদের চাঁদাবাজি থেমে নেই, ঘুমিয়ে আছেন পুলিশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের বিভিন্ন সড়কে গাছ ফেলে অবরোধের নামে ১০-১২ জনের মুখোশপরা সশস্ত্র দূবৃত্ত্ব বিভিন্ন যানবাহন  আটক করে চালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও মালামাল লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এঘটনায় থানা পুলিশকে জানালেও  কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের সিকদার রাস্তার মাথা, চাঁদপুর সড়কের বোয়ার্ডার ও লেংড়া বাজার, রামগঞ্জ সড়কের ওয়াইজজার পোল, সরকারী কলেজ সংলগ্ন সড়কসহ উপজেলার কয়েকটি স্থানে টানা অবরোধে কয়েকদিন ধরে রাতে ও ভোরে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তারা ৫শ থেকে থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেছেন।
প্রথম দিকে অবরোধকারীরা দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় রোববার রাতে চাদপুর থেকে রায়পুর আসার পথে বর্ডার বাজার নামক স্থানে একটি পেঁয়াজ ভর্তি ক্যাভার্টভ্যান আটক করে। এসময় চালকের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ৫বস্তা পেঁয়াজ, নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর ওই সড়কেই তিনটি যাত্রীবাহী অটোরিক্্রা আটক করে যাত্রীদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে যায়।।  এছাড়াও গত সপ্তাহের অবরোধে একটি বিয়ের মাইক্রোবাস ভাঙচুর ও অপর একটি মাইক্রোবাসের যাত্রীদের টাকা ও মোবাইল লুটে নেন বলেও তারা অভিযোগ করেন। তারা আরও জানিয়েছেন, চাঁদা না দেয়ায় কয়েকজনকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করেছেন তারা।

অটোরিকশাচালক মো. মুক্তার হোসেন জানান, রোববার রাত ১২টার দিকে চাঁদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে রায়পুরে আসছিলেন। বোয়ার্ডার বাজার ব্রিজের কাছে পৌঁছলে ৫-৬ জনের মুখোশপরা সন্ত্রাসী তার সিএনজি আটক করে পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তারা দুই হাজার টাকা দাবি করেন। পরে যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ে এক হাজার টাকা দেয়া হলে তারা চলে যান। একই রাতে   রামগঞ্জ থেকে ফেরার পথে একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন রায়পুরের ব্যবসায়ী শাহাজান পাটোয়ারী।

শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে রায়পুর ফেরার পথে সিকদার রাস্তার মাথায় সন্ত্রাসীদের কবলে পড়েন দুলাল ও মাসুদ নামের দুই ব্যবসায়ী। তাদেরকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে দুটি মোবাইল ও নগদ ১৫ হাজার টাকা লুটে নেয়।  একই রাতে  সোহাগ নামের এক ব্যবসায়ী কালেশন শেষে রাত ১২টার দিকে জোড়পুল নামক স্থানে মুখোশপরা সন্ত্রাসীরা গতিরোধ করে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন এবং দুই হাজার টাকা দাবি করেন। পরে এক হাজার টাকা দিলে তারা চলে যান।

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমরান হোসেন ও পৌর ছাত্র শিবিরের সভাপতি ফজলুল করিম বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমরা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতারা উদ্বিগ্ন। এ কারণে নেতাকর্মীদের রাতে ও ভোরে পিকেটিং না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে দলীয় কেউ যদি জড়িত থাকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রায়পুর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নাছিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, সড়কে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজির ঘটনা শুনেছি। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। রাতে ওই সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।