লাকসামে ইউএনও কার্যালয় আগুন, ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে পৌরশহরের পশ্চিমগাঁয়ে অবস্থিত উপজেলা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুর্বৃত্তরা সীমানা দেয়াল টপকে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করে ইউএনও কার্যালয়ের পেছনের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। ওই সময় দুর্বৃত্তরা তৈল জাতীয় দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে অগ্নি সংযোগ করে। এতে ওই করে সকল আসবাবপত্র, ফ্যাক্স মেশিন, কম্পিউটার, ফাইল কেবিনেট, টেলিফোন সেট, একটি হ্যান্ড মাইক,  কক্ষের টাইলস, দেয়াল ও ছাদের প্লাষ্টারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ভস্মিভূত হয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার য়সাধিত হয়।

এ সময় পুরো কমপ্লেক্সে ১০ জন পাহারাদার থাকার কথা। পাহারাদার ও পার্শ্ববর্তী নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পুলিশ পাহারায় থাকলেও ঘটনা টের পায়নি কেউই। পরে সকালে ঝাড়–দার ওই ক পরিস্কার করতে গেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনা দেখতে পায়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শফিউল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেন। এ ঘটনার পর উপজেলা কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা রক্ষি মফজ্জল হোসেন জানান, রাত ৩টা পর্যন্ত আমি অফিসের পাশের রুমে টিভি দেখি। পরক্ষণে ঘুমিয়ে যাই। সকাল ৭টার দিকে ঝাড়–দার এসে আমাকে ডাক দিলে অফিস পরিস্কারের জন্য ওই রুমটি খুললে আগুনের ঘটনা দেখতে পেয়ে পানি ঢেলে নেভানোর চেষ্টা করি এবং ইউএনও স্যারকে জানাই।

খবর পেয়ে লাকসাম থানার ওসি আবুল খায়ের সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার এমএ মফিজুর রহমান জানান, তৈল জাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে এ অগ্নিকান্ড ঘটানো হতে পারে। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শফিউল আলম জানান, রাতের শেষ দিকে দুর্বৃত্তরা পেছনের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে অগ্নিকান্ড ঘটায়। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

এদিকে কর্তব্য কাজে অবহেলার দায়ে এ এস আই ইকবাল হোসেন, কন্সেটেবল তাসনুর, মিজানুর রহমান ও হানিফ মিয়াকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।