রাস্তায় ওয়েল্ডিং, জনস্বাস্থ্য হুমকির মূখে!

কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় খোলা অবস্থায় রাস্তার পাশেই চলছে ওয়েল্ডিং কারখানার নৈমিত্তিক কাজ। ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ওয়েল্ডিং কারখানাগুলো কোনো নিয়ম-নীতি না মানায় জনস্বাস্থ মারাত্মক হুমকির মূখে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে উপজেলা সদর ও পৌর এলাকাসহ উপজেলার হাটবাজারগুলোর প্রধান সড়ক কিংবা অলিগলিতে প্রকাশ্যে খোলা রাস্তায় ওয়েলডিং কারখানার কার্যক্রম জনসাধাণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে- এসব দেখার যেন কেউ নেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ছোট-বড় ওয়েল্ডিং কারখানার শ্রমিকরা প্রকাশ্যে রাস্তার উপর ওয়েল্ডিংসহ তাদের যাবতীয় কাজ সারছে।
নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পুরুত্বের দেয়াল ঘেরা স্থানে ওয়েল্ডিং করার কথা থাকলেও প্রকাশ্যে ওয়েল্ডিংকালে সৃষ্ট আলোকচ্ছটা পথচারীসহ আশেপাশের ব্যবসায়ীদের মারাত্মক শারিরীক তি সাধন করছে।

অপরদিকে দেখা যায়, সড়কের পাশে গড়ে ওঠা ওয়েলডিং কারখানাগুলো ফুটপাতের পাশাপাশি মূল রাস্তাও দখল করে নিয়েছে। এসব কলকারখানায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত— চলে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ। এ ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আমলেই নেয়া হচ্ছে না।

ফলে জন চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টির পাশাপাশি অনেক কৌতুহলী স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, শিশু-কিশোরসহ পথচারিদের চোখের সমস্যাসহ অন্যান্য শারিরীক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে, ওয়েল্ডিংয়ের দৃশ্য দেখার জন্য আশে পাশে অনেক শিশু-কিশোরকে ভিড় জমাতে দেখা যায়। ওয়েল্ডিংকালে মোটা কালো চশমা পরার নিয়ম থাকলেও অনেক শ্রমিককে খালি চোখে কাজ করতে দেখা যায়।
এছাড়া, অনেক কারখানায় শিশু শ্রমিকের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। ওয়েল্ডিংয়ে নির্গত অতিমাত্রার আলোক রশ্মি শ্রমিকসহ বিভিন্ন বয়সী পথচারীদের চোখের মারাত্মক তিসাধন করছে। ফলে এলাকায় চু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

চুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে ওয়েল্ডিংয়ের রশ্মির কারণে চোখ দিয়ে প্রচন্ড পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চোখ জ্বালাপোড়াসহ কর্ণিয়াতে আলসারসহ ফটো ট্যারাটাইটিস হয়ে থাকে। তাছাড়া, ওয়েল্ডিংকালে লোহার ুদ্র কণা চোখে পড়লে মনি ছিদ্র হয়ে অন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

স্থানীয় চু ডাক্তার ও চশমা বিক্রেতারা জানায়, অতীতের তুলনায় লাকসাম-মনোহরগঞ্জে চু রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। যা ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন ও চশমা বিক্রিতে বুঝা যায়।
স্থানীয়দের দাবী, সরকার পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নিলেও লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কোন আন্তরিকতায় দেখা যাচ্ছে না। অথচ এখানকার হাট-বাজারগুলোতে গড়ে ওঠা ওয়েল্ডিং কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠলেও কর্তৃপ নির্বিকার। অভিযোগের পর থেকে ওইসব কারখানা মালিকদের অপতৎপরতা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা যায়, পরিবেশ বিনষ্টকারী বিভিন্ন পুরাতন মালামাল ক্রয় করে ওইসব ব্যবসায়ীরা ওয়েলডিং মেশিনের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে নতুনভাবে বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরী করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কারখানা মালিকদের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের হস্তপে কামনা করছেন ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।