থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আসছে ইয়াবা: কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাচ্ছে চালান

থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে চলছে মাদকদ্রব্য ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। ‘টেকনাফ-চট্টগ্রাম-ঢাকার’ একাধিক সিন্ডিকেট থার্টি ফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার থেকে ব্যাপক হারে ইয়াবা আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। আর প্রতিদিন আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের হাতে গাড়িসহ ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে। কক্সবাজারে তিন মাসে রেকর্ড পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এ তিন মাসে সাড়ে ৫ লাধিক ইয়াবা উদ্ধারের পর ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন নিয়ে উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের সচেতন মানুষসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসব ঘটনায় পাচারকারীরা ধরা পড়লেও সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে, ইয়াবার জোয়ার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফের চিহ্নিত ২৪ পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসছে এসব ইয়াবা। প্রশাসনের তালিকা মতে পয়েন্ট গুলো হলো- শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ঘাট, জালিয়াপাড়া, সাবরাং নয়াপাড়া ঘাট, ঝিনাইখাল, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার বেড়িবাঁধ এলাকা, নাজিরপাড়া এক নম্বর সøইচ গেট, নাজিরপাড়া আড়াই নম্বর সøইড গেট, পৌরসভার ট্রানজিট ঘাট, নাইট্যংপাড়া, টেকনাফ বন্দর এলাকার কেরনতলী, দমদমিয়া, জাদিমুরা প্রাইমারি স্কুল পয়েন্ট, জালিয়াঘাটা, নোয়াখালী শফির মার্কেট, লেদা, রঙ্গিখালী চৌধুরীপাড়া, আলীখালী রাস্তার মাথা, হ্নীলা কাস্টমস ঘাট, ফুলের ডেইল, মৌলভীবাজার, নাটরপাড়া, ঝিমংখালী, উংচিংপ্রাং, লম্বাবিল, হোয়াইক্যং।

জানা যায়, সেপ্টেম্বরের আগের ৬ মাসে কক্সবাজারে আড়াই লাধিক ইয়াবা উদ্ধার করে ছিল বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। কিন্তু এর বিপরীতে অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজারে ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য অধিদফতর। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ৩১ হাজার ১৯৭টি ইয়াবা। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৩৫৬ টি ইয়াবা। এর মধ্যে নভেম্বরে দেড় লাখ ইয়াবার ৩টি চালান রয়েছে।

বিজিবি’র টেকনাফস্থ ৪২ ব্যাটালিয়নের সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে বিজিবি সদস্যরা ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৪৪টি ইয়াবা উদ্ধার করে। নভেম্বরের প্রথম ১৮ দিনে উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৬৯৬ টি ইয়াবা। এরপর ডিসেম্বরের ১৮ দিনে উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি ইয়াবা। এছাড়া বিজিবি’র কক্সবাজারস্থ ১৭ ব্যাটালিয়ন সদস্যরা ৫ হাজারের বেশি, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ৭ হাজারের বেশি, কক্সবাজার মাদক দ্রব্য অধিদফতরের কর্মীরা ৯ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে এক মাসে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক প্রতিবেদন মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলে ইয়াবার আগ্রাসন বেড়েছে।

টেকনাফ বিজিবি-৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলে সীমান্তে ইয়াবা পাচার বেড়ে গেছে। তবে, সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে বিজিবির টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে বিজিবি গত ২০ দিনের মধ্যে বেশকিছু ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার করতে সম হয়েছে। তিনি আরো জানান, সীমান্তে ইয়াবা পাচারের কাজে জড়িতদের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আর এখন যে ইয়াবা ধরা পড়ছে, তার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সীমান্তে বিজিবি টহল হ্রাস করা হয়েছে কিনা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সীমান্তে কোনো ধরনের টহল হ্রাস করা হয়নি। সীমান্তে প্রতিটি পয়েন্টে আগের মতো বিজিবি টহল দিচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে হেড কোয়ার্টার থেকে বিজিবি সদস্যদের আনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।