কক্সবাজারে ধ্বংসের মুখে পোলট্রি শিল্প, শতাধিক খামার বন্ধ

টানা অবরোধ-হরতালের কারণে কক্সবাজারে পোল্ট্রি ব্যবসায়ে ধস নেমেছে। উপজেলার বাইরে ডিম ও মুরগি পাঠাতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৩শ’ খামার। এবং ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ১৫৭টি খামার। এমনকি ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলায় ছোট-বড় ৫শ’ ১১টি পোল্ট্রি খামার আছে। এখামার গুলো থেকে দৈনিক ১ল ৫০হাজার ৪শত ১৭টি ডিম উৎপাদন হয়। এবং ২ল ৫২হাজার ৭৭ মেট্রিক টন মাংস পাওয়া যায়। এ ব্যবসার মাধ্যমে সচ্ছল হন শত শত নারী-পুরুষ। এসব খামারে উৎপাদিত মাংস ও ডিম অত্র অঞ্চলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।

সরেজমিনে সদর উপজেলার খরুলিয়া, রামু, কলঘর, নুনাছড়ি, লম্বরী পাড়া, চাকমারকুল এলাকার একাধিক খামার মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মসূচির কারণে তিন মাস ধরে তারা মুরগি ও ডিম উপজেলার বাইরে পাঠাতে পারেননি। এছাড়া আমদানি কম হওয়ায় খাদ্যঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম একটু বাড়লেও গত দেড়মাস ধরে প্রতি কেজি মুরগি স্থানীয় বাজারে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ১০০টি ডিমের মূল্য ৯০০ টাকার পরিবর্তে ৬শ টাকায় বিক্রি করে লোকসান গুনছেন।

রামু উপজেলার কলঘরের মিমি পল্ট্রি ফার্মের স্বত্তাধিকারী শাকের কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. ছালেক জানান, তার ফার্মে একসময় ৬ হাজার মুরগী ছিল। বর্তমানে সেখানে মুরগী রয়েছে মাত্র ৩১শ’টি। একদিকে হরতাল-অবরোধের কারণে মুরগির মূল্য কমে গেছে, অন্যদিকে সুযোগসন্ধানী একটি চক্র সিন্ডিকেট করে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ভিটামিনসহ পোল্ট্রিসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
একই কথা বলেন কক্সবাজারের খরুলিয়ার চাকমারকুল এলাকার জাফর, নুনাছড়ির রুহুল আমি, লম্বরী পাড়ার মাস্টা আমিনসহ আরোও অনেকে।

তারা আরোও বলেন, মুরগির প্রধান খাদ্য ভুট্টা, সয়াবিন খৈল, পালিশ, প্রোটিন। এর সঙ্গে মেশাতে হয় ওষুধ লাইসিন, মিথুনিল, এলটক্সিন, ডিসপ্রিন, এনজাইম, কলিন। প্রতি মাসে পরপর তিনদিন মাইক্রোপ্লাজনার অ্যান্টিবায়োটিক ১০০ গ্রাম খাওয়াতে হয়। এছাড়া ওষুধ টিয়ামুটিন ও তার সঙ্গে সিটিসি সলিকুল ৩০০ গ্রাম দিতে হয়। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ মাইক্রোপ্লাজনার ১০০ গ্রাম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়। সিটিসি সলিকুল ১০০ গ্রামের বর্তমান বাজার মূল্য ৩৮০ টাকা। হরতাল-অবরোধের কারণে মুরগির দাম কমে যাওয়ায় লোকসান দিতে হচ্ছে।

উপজেলা পোল্ট্রি খামার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাস্টার হুমায়ুন জানান, এই পরিস্থিতিতে পোল্ট্রি ফার্মের খুবই দুঃসময় যাচ্ছে। দিনে দিনে মুরগী ও ডিমের দাম কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে দাম কমানোর পরও তেমন কোন বেচাবিক্রি নেই। কারণ এখানে যেসব ডিম উৎপাদন হয় তা অন্যান্যবার দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনভাবেই তা সম্ভব হচ্ছে না।

পোল্ট্রি শিল্পে নাজুক অবস’ার কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পোল্ট্রি ব্যবসায়ে ধস নেমেছে। লোকসানের কারণে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এই শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ৪হাজার লোক কর্মসংস’ান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।