নির্মম নির্যাতন, বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ রায়পুরে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে নাছিমা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ওষধ কিনতে না পারা ও বিনা বিচারে নাছিমা আক্তার নামে এ স্বামী পরিত্যক্ত্যা নারী প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলার স্বীকার হয়ে ১৪ দিন ধরে সরকারী হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যূ যন্ত্রনায় ছটফট করছে। এছাড়াও তার বসত ঘর গুড়িয়ে দিয়ে মালামাল লুটসহ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে প্রভাবশালী ওই প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায়  চেয়ারম্যান, মেম্বার, ও প্রশাসনের কাছে গিয়ে ও বিচার পাচ্ছেনা বলে নাছিমার স্বজনরা অভিযোগ করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে উপজেলার ২নং চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন জাকির বেপারী বাড়ীতে।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে হাসপাতালে গেলে নাছিমা সাংবাদিকদের জানান, তিনি চার সন্তান নিয়ে স্বামী দুদু মিয়ার বাড়ীতে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে একই বাড়ির প্রভাবশালী জাকিররের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। কয়েকবার মিমাংসার জন্য বৈঠকও হয়। কিন্তু ১৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ইউপি সদস্য মফিজ খানের পরোক্ষ নির্দেশে তারই ভাগিনা জাকিরের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী নাছিমার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তাকে নির্মম নির্যাতন করে বসতঘর গুড়িয়ে দিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে উচ্চেদ করে দেয়। নাছিমাকে মৃত ভেবে বাড়ীর পাশের একটি পরিত্যক্ত্য ডোবায় ফেলে রেখে চলে যায় । পরে গুরুতর জখম অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করেন।  ভিটেমাটি হারিয়ে সহায়-সম্বলহীন নাছিমা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। টাকার অভাবে লিখিত অভিযোগও দিতে পারেননি থানায়। এঅবস্থায়  এঘটনার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নির্যাতিত নাছিমা ।
যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন এ বিষয়ে বলেন, নাছিমার স্বামী আমাদের কাছে ভিটেমাটিসহ জায়গাটি বিক্রি করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। কয়েকবার চেয়ারম্যান মেম্বারদের নিয়ে নাছিমার সাথে বৈঠক হয়। কিন্তু নাছিমা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পাত্ত ছাড়তে রাজি না হওয়ায় বল প্রয়োগ করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না।
২ নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন মাষ্টার ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন,  এ ঘটনা নিয়ে একাধিকবার নাছিমা ও জাকিরদের সাথে মিমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উভয়েই আমার কথা শোনেনি। বসত ঘর ভেঙ্গে দিয়ে সমস্ত মালামাল লুটে নেয়ার কথা আমি শুনেছি।
রায়পুর উপজেলা চরবংশী ইউনিয়ন (হাজিমারা) ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ ( এসআই) আব্দুল খালেক বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। যদি আসে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।