থেমে নেই মালেশিয়ায় আদম পাচার… জনশক্তি শূণ্য মহেশখালীর জেলে সম্প্রদায়

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর উপকূলীয় এলাকা হিসাবে চিহ্নিত কুতুবজুম ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে বর্তমানে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। সাগর পথে অবৈধ পন্থায় মালেশিয়া অনুপ্রবেশের কারণে এসব এলাকায় পুরুষদের উপস্থিতি কমে গেছে। এলাকাবাসী ও প্রাপ্তসূত্রে জানা যায়, কুতুবজুম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা, পশ্চিম পাড়া, নয়াপাড়া, চরপাড়া, খেন্দাকার পাড়া, ঘটিভাঙ্গার সোনাদিয়া, পশ্চিম পাড়া ও মেহেরিয়া পাড়ার হাজার হাজার পুরুষ যুবক থেকে শুরু করে মধ্যবয়স্ক পুরুষ লোকরা টাকা উপার্যনের জন্য অবৈধ ভাবে সাগর পথে পাড়ি জমিয়েছে।
তৎমধ্যে অনেকে জীবনের ঝুকি নিয়ে মালেশিয়া অনুপ্রবেশ করলেও বেশির ভাগ মানুষ সাগরের প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে গভীর সাগরে ভেসে গেছে এবং অনেকে আবার অনুপ্রবেশের সময় মালেশিয়া ও থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে নিখোঁজ অবস্থায় কারাগারে রয়েছে বলে মালেশিয়া গমনকারীদের অভিভাবকরা সন্দেহ প্রকাশ করে। উপকূলীয় এলাকা কুতবজোম ইউনিয়নে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা হচ্ছে ফিশিং ট্রলারের মাধ্যমে মৎস আহরণ। কিন্তু সম্প্রতি ঐসব এলাকায় কিছু মানবপাচারকারী অশিক্ষিত, সহজ, সরল জেলে জনগোষ্ঠীকে অল্প টাকায় মালেশিয়া গমনের স্বপ্ন দেখানোর ফলে অত্র এলাকার এক তৃতীয়াংশ লোক স্বপ্নের দেশ মালেশিয়া গমনের উদ্দ্যেশে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তৎমধ্যে অনেকে গভীর সাগরের ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে মালেশিয়া পৌছাতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ লোক সাগরের মাঝপথে বিভিন্ন দূঘর্টনায় পতিত হয়ে তাদের স্বপ্নের পাশাপাশি অচিরেই নষ্ট হয়েছে তাদের পরিবারের স্বপ্ন।

ঘটিভাঙ্গা এলাকার একাদিক ট্রলার মালিক জানায়, এলাকার অধিকাংশ ট্রলারের মাঝি-শ্রমিকরা অগ্রিম দাদনের টাকা নিয়ে মানব পাচারকারী দালালের খপ্পরে পড়ে মালেশিয়া পাড়ি দেওয়ায় বর্তমানে জনশক্তি শূন্য হয়ে পড়েছে মহেশখালীর উপকূলীয় এলাকার জেলে জনগোষ্ঠী। ট্রলার মালিকরা একদিকে হারিয়েছে মাঝি-শ্রমিক কর্তৃক নেওয়া দাদনের টাকা, অন্যদিকে হারিয়েছে জনশক্তি। বর্তমানে এসব এলাকার অনেক ট্রলার মালিক শ্রমিকের অভাবে সাগরে ট্রলার নামাতে পারছেনা। ফলে ট্রলারমালিকরা দিন দিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যাচ্ছে। এমনকি শ্রমিকের অভাবে পড়ে দৈনন্দিন নিত্য দিনের কাজের জন্য চরম দূর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার মানুষদের। সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলার চিহ্নিত দালালচক্রের অনেক সদস্য এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। অল্প দিনে তারা অনেক টাকার মালিক হয়ে গাড়ি বাড়ী সহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক জায়গা জমি ক্রয় করেছে। এসব দালালচক্রের সদস্যরা গত দীর্ঘ ২ বছরের অধিক সময় ধরে মহেশখালীর বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধারন মানুষকে অল্প টাকায় পাসপোর্ট ও ভিসা বিহীন মালেশিয়া গমনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারনার ফাদে পেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সুযোগ বুঝে সটকে পড়ে।

এলাকার সচেতন মহল দাবী করে, উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মানব পাচারকারী দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এলাকার লোকজন সহযোগীতা করে চিহ্নিত দালাল চক্রকে ধরিয়ে দিলে অচিরেই মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা সহ পুরো উপজেলা দালাল মুক্ত হয়ে যাবে। যার ফলে ভবিষ্যতে আর কোন মাকে সন্তান হারা, কোন বিবিকে স্বামী হারা, কোন ভাইবোনকে ভাই হারা হতে হবেনা। এই ব্যপারে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, সঠিক তথ্য পেলে দালাল  চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।