হরতাল- অবরোধে লোকসানে রায়পুরের চার শতাধিক পোলট্রি খামার

টানা অবরোধে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মুরগির খামার (পোলট্রি) ব্যবসায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। অবরোধ-হরতালে পরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকে খামারে বাচ্চা ওঠাতে পারছেন না। এ ছাড়া দফায় দফায় মুরগির খাদ্য, বাচ্চা, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে চার শতাধিক পোল্ট্রি খামার।

রায়পুর প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২৭২টি ব্রয়লার ও ১৭টি লেয়ার মুরগির খামারের নিবন্ধন রয়েছে। তবে পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিবন্ধনের বাইরে আরও শতাধিক খামার রয়েছে। পোলট্রিশিল্পে জড়িত কয়েকজন জানান, লাভজনক হওয়ায় উপজেলার অনেক শিতি যুবক এ শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ব্যাংক, বেসরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অনেকে খামার গড়ে তোলেন। এতে উপজেলায় গড়ে ওঠে প্রায় ৪০০ মুরগির খামার। কিন্তু এক বছর আগে এ শিল্পের বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে দেখা দেয় মন্দার ভাব। বর্তমানে হরতাল অকরোধের কারণে এসব খামারের অধিকাংশই লোসকানের মুখে পড়েছেনে।

খামারের মালিক সাইফুল আলম জানান, রায়পুরের প্রায় ৪০০ খামারে তাঁদের বিনিয়োগ প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। এর সঙ্গে উপকারভোগী জড়িত আছেন আরো প্রায় ২০ হাজার। অবরোধের কারণে খামারিরা বাচ্চা পরিবহন করতে পারছেন না। এতে তাঁর খামারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওষুধ, বাচ্চা, খাদ্যসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় এ উপজেলায় খামারিরা অন্তত কোটি টাকা লোকসান গুনেছেন।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত দুই মাসে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা পোলট্রি ফিডের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। সব ধরনের ওষুধের দামও বেড়েছে দ্বিগুণ। পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, গত দুই মাসে মুরগির সব ধরনের খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে গেছে। এতে পোলট্রি ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আগে ১৯টি খামারে ওষুধ, বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ করতাম। এখন মাত্র সাতটি খামারে সরবরাহ করি।

মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কালাম জানান, তিন মাস আগে তিনি ২৭ থেকে ৩০টি খামারে খাদ্য ও ওষুধ সরবারহ করতেন। দফায় দফায় খাদ্য ও ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় উপজেলার অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এখন তিনি ১০-১২টি খামারে উপকরণ সরবরাহ করেন।

রায়পুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবদুল মোতালেব বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে পোলট্রি ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করছে। খাদ্যসহ পোলট্রি খামারের উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারের পরিস্থিতি ভালো হলে বন্ধ হওয়া খামারগুলো আবার চালু হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।