মিরসরাইয়ে পারিবারিক কলহে এক বছরে খুন ৭, আত্মহত্যা ৫

মিরসরাইয়ে বেড়েছে পারিবারিক কলহ এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনা। মিরসরাই থানা এবং জোরারগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে উপজেলাটিতে পারিবারিক কলহে খুন হয়েছেন সাতজন এবং আত্মহত্যা করেছে পাঁচজন।

উপজেলাটিতে বেড়ে গিয়েছে পারিবারিক কলহ। পারিবারিক কলহ ও যৌতুক আদায়কে কেন্দ্র করে গত এক বছরে উপজেলাটিতে সাতজনকে খুন করা হয়েছে।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি উপজেলার ৭ নম্বর কাটাছড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাটাছড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মজিবুল হক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি খুন হন।

১৯ জুন উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের জনার্দনপুর গ্রামে স্বামী ও পরিবারের লোকজনের শারীরিক অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে নাজমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি এলাকার সাইফুলের স্ত্রী ছিলেন।

১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের  মধ্যম সোনাপাহাড়  গ্রামে ভাসুরের (স্বামীর বড় ভাই) লাঠির আঘাতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৩৫) নিহত হন। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

১৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার ১২ নম্বর খৈইয়াছড়া ইউনিয়নের উত্তর আমবাড়িয়া গ্রামের আঞ্জুমান আক্তার কনাকে যৌতুকের কারণে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করেছে।

১১ নভেম্বর উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের এ্যানী চৌধুরী (১৯) নামে এক গৃহবধূর লাশ পুকুর থেকে উদ্বার করে মিরসরাই থানা পুলিশ। এ্যানীর বাবা সম্মু কান্তি চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিয়েতে যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং দাবিকৃত তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণ দিতে সক্ষম হন। বাকি আধা ভরি স্বর্ণের জন্য বিয়ের পর থেকে স্বামী রাজিব দে, শ্বাশুড়ী মীরা রানী দে ও ননদ দীপ্তি যৌতুকের দাবিতে এ্যানীর উপর নির্যাতন চালাতো। তারাই পরে এ্যানীকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়।

১৭ ডিসেম্বর বারইয়ারহাট পৌরসভার জামালপুর গ্রাম হেদায়েত উল্লাহর বাড়ি থেকে নাছিমা আক্তার নামে এক (৩৫) গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি বারইয়ারহাট পৌরসভার জামালপুর গ্রামে। তার স্বামীর নাম এমরান হোসেন ওরফে গুড়া মিয়া। পুলিশের ধারণা পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যা করেছে ওই গৃহবধূ।

২০ ডিসেম্বর উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম অলিনগর গ্রামের মহাজনপাড়ার দেলোয়ার হোসেন দেলুর দ্বিতীয় পুত্র মিনহাজ উদ্দিন ইমনকে (২২) পারিবারিক কলহের কারণে মেরে মাটিতে পুঁতে পেলে তার পরিবার। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন দেলু ও নিহতের ভাই নিশান হোসেনকে আটক করেছে। ঘটনার পর থেকে মা নিশু আক্তার পলাতক রয়েছে।

এছাড়া উপজেলাটিতে গত এক বছরে আত্মহত্যা করেছেন চারজন।

৮ জুন আলাউদ্দিন (২৪) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। মিঠাছরা বাজারের পাশ্ববর্তী পূর্ব মঠবাড়িয়া গ্রামের হোসেন-উজ-জামানের পুত্র আলাউদ্দিন প্রতিদিনের মতো সেদিন রাতেও নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায়। সকালে পরিবারের লোকজন এসে আলাউদ্দিনের সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে দেখে ঘরের তীরের সঙ্গে তার নিথর দেহ ঝুলছে।

টিভিতে চ্যানেল দেখা নিয়ে বোনের সাথে কথা কাটাকাটির কারণে অভিমান করে ২৯ আগস্ট বিকেলে উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের নয়দুয়ারিয়া বেলতলা নামক স্থানে রেল লাইনে শুয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে নিজামপুর বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন দেব নাথ ও সরকারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মীনা দেবনাথের একমাত্র ছেলে সীমান্ত দেব নাথ (১৪)।

আদিবাসী কিশোরী (১৪) মেয়ের ধর্ষনের অপমান সহ্য না করতে পেরে গত ১৩ নভেম্বর ধর্ষিতার বাবা অনিন্দ্র ত্রিপুরা (৩৭) মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ত্রিপুরা পাড়ায় আত্মহত্যা করে।

৩১ ডিসেম্বর উপজেলার ১৪ নম্বর হাইতকান্দি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া গ্রামের জিন্নাত আলী ভূঁইয়ার বাড়িতে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে পিছিয়ে পড়ায় অভিমানে তারাকাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝর্ণা আক্তার সুমাইয়া (১২) নামের শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইমতিয়াজ এম কে ভূঁইয়া ও জোরারগঞ্জ থানার ওসি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বিভিন্ন হত্যা ও আত্মহত্যার মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। অনেক সময় বাদী পক্ষের অসহযোগীতার কারণে মামলা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়না। তারপরও আমরা চেষ্টা করব যাতে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।