দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় কচুয়ায় যুবলীগ নেতা সুবিচার পাবে কি?

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কাদলা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম লালু’র দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা (যার নং ১৭৪/১৩) এখন ফাইল বন্দী। পুলিশের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতের জৈষ্ঠ্য বিচারক হাকিম দিদার হোসাইন।

কচুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ আলমগীর হোসেন মজুমদার পুলিশ হেডকোয়াটারে মামলাটি তদন্তের অনুমোদন পেতে নিয়মানুসারে আবেদন করলেও অজ্ঞাত কারণে মিলছে না অনুমোদন। ফলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ৩ মাস পার হলেও মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশংকায় ভূগছে মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম লালু ও তার পরিবার।

ভোক্তভূগী রফিকুল ইসলাম লালু  জানান, তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানী ও নির্যাতনের গঠনায় অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা তৎকালীন কচুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল মুত্তাকিন ও সোহেল আহমেদ। তাদের মধ্যে একজন নুরুল মুত্তাকিন বর্তমানে লালবাগ থানার অফিসার ইনর্চাজ হিসেবে দায়িত্বরত এবং সোহেল আহমেদ শান্তি মিশনে রয়েছেন।বিজ্ঞ আদালত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারনে কোন প্রতিকার নিচ্ছে না।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১ ফেব্র“য়ারী কচুয়ার গুলবাহার গ্রামের অধিবাসী  বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লালু  ব্যক্তিগত কাজে চাঁদপুরের আদালতে গেলে কচুয়া থানার তৎকালীন ওই দুই এসআই সাদা পোশাকে তাকে চোখ- মুখ বেঁধে কচুয়া থানায় নিয়ে আসে। পরে একটি প্যান্ডিং ডাকাতি মামলায় আসামী দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডে এনে থানা হাজতে আটকে রেখে অন্যায়ভাবে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মধ্যযোগীয় কায়দায় অমানসিকভাবে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে নরুল মুত্তাকিন নিজে সংগ্রহ করে জং ধরা পুরানো একটি পিস্তল লালুর  হাতে ধরিয়ে দেয়। দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাদী রফিকুল ইসলাম লালু মামলার প্রেেিত বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে বেকসুর খালাস দেয় এবং অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু ও তিপূরন দেয়ার আদেশ দেয়। এসব ঘটনায় আসামীর পিতা আব্দুল হাকিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ছেলের উপর হামলার শোকে মারা যান ও তার বৃদ্ধা মা মৃত্যুর শয্যায় উপনীত হয়। এছাড়াও তিনি (রফিকুল ইসলাম লালু) শারীরিক মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে তিগ্রস্থ হয়েও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়ে দৃষ্টি শক্তি হারানোর পথে।
এ ব্যাপারে কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপরে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মামলাটির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।