ভোট কেন্দ্রে ভোটার কম থাকলেও কুমিল্লার দুটি আসনে পড়েছে অস্বাভাবিক ভোট

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ ও ৯ আসনে অস্বাভাবিক ভোট পড়েছে। কুমিল্লা-৫ আসনে ৬৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং কুমিল্লা-৯ আসনে ৫৪ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদিও জেলার সাতটি আসনে গড় ভোট পড়েছে ৪২ দশমিক ১৬ শতাংশ। এই দুই আসনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী আবদুল মতিন খসরু ও মো. তাজুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

গত রোববার নির্বাচনের দিন সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ দুই আসনের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে কোনো ভোটার পাওয়া যায়নি। দুটি ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জাল ভোট দিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ওই দুই আসনে এত ভোট পড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

গত রোববার কুমিল্লা জেলার সাতটি আসনের বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ফাঁকা পাওয়া গেছে। কিছু কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের দেখা পেলেও মহিলা ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। সকাল সোয়া নয়টায় কুমিল্লা-৫ আসনের বুড়িচং উপজেলার রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কোনো ভোটার পাওয়া যায়নি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সেখানে বসে থাকতে দেখা যায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে একই উপজেলার ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গিয়ে একই দৃশ্য দেখা গেছে।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন জানান, ১৯৯৬ সালের একতরফা নির্বাচনেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে খুব কমসংখ্যক লোক কেন্দ্রগুলোতে ভোট দিতে গিয়েছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিপুল ভোট পাওয়ায় তিনি বিস্মিত হন।

দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা-৯ আসনের লাকসাম উপজেলার বিজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিজরা রহমানিয়া চিরসবুজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে পাওয়া গেল ভিন্ন চিত্র। এই দুই কেন্দ্রেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দল বেঁধে জাল ভোট দিতে দেখা গেছে। সেখানে কোনো ভোটার খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা জানান, ভোটার নেই। তাই দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যালট পেপারে সিল মারছেন। একতরফা নির্বাচন হওয়ায় তাঁরা কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

এই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, সকাল থেকে নৌকার প্রার্থীর লোকেরা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে সিল মেরে ভোটের সংখ্যা বাড়িয়ে দেন।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগদলীয় দুই সাংসদের সঙ্গে সোমবার বিকেলে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কোথাও কোনো হাঙ্গামা হয়নি। ওই দুই আসনে অস্বাভাবিক ভোট পড়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্র: প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।