হিরু-হুমায়ুন যে কোন সময় লাকসামে ফিরে আসছে, সবত্রই যেন এই গুঞ্জন!

ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ- এমনটাই প্রমাণ হলো লাকসাম উপজেলা বিএনপি সভাপতি-সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম হিরু ও লাকসাম পৌরসভা সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ এর ক্ষেত্রে। প্রায় ১ মাসের বেশী সময় তারা নিখোঁজ থাকায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে তাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জননেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে এখানকার জনগণ তাদের মাঝে ফিরে পেতে চান। কুমিল্লা লাকসামের এ দু’ বিশিষ্ট ব্যক্তির ফিরে আসার প্রত্যাশায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ।

এদিকে লাকসামে আকাশে বাতাশে এক সাপ্তহ ধরে একটিই গুঞ্জন ১০ তারিখের  পরে যে কোন সময় লাকসাম-মনোহরগঞ্জের গণমানুষের নেতা লাকসামে ফিরে আসছে কঠিন সড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে। এই গুঞ্জন সত্য না মিথ্যা  না জানলেও এই খবরে যেন লাকসাম-মনোহরগঞ্জের সকল পেশার মানুষ মহা খুশি। লাকসাম মনোহরগঞ্জের বিভিন্ন পেশার মানুষ গনমাধ্যম কর্মী এবং হিরু-হুমায়ুনের আপনজনদের নিকট সব সময় জানার চেষ্টা করছেন সত্যি কি তাঁর ফিরে আসছেন? সবাই দোয়া করছে আ্ল্লাহ যেন তাদের কে লাকসাম বাসীর নিকট ফিরিয়ে দেয়।

সূত্র মতে- গত ২৭ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির ও একই কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন লাকসাম ফেয়ার হেলথ হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লায় যাচ্ছিলেন। কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের সদর দণি উপজেলার আলীশ্বর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি থামিয়ে র‌্যাব পরিচয়ে একদল লোক তাঁদের গাড়িতে করে নিয়ে যায়। তখন চালক সাদেক আহমেদ অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে লাকসামে ফিরে যান। তিনি জানান, র‌্যাব বিএনপির নেতাদের নিয়ে গেছে। ওই রাতেই র‌্যাব সদস্যরা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় সাইফুল ইসলাম ও হুমায়ুন কবিরকে গাড়িতে রেখে জসিম উদ্দিনকে নামিয়ে নেন। রাতেই জসিমকে র‌্যাব লাকসাম থানায় হস্তান্তর করা হয়। একই রাতে র‌্যাব লাকসামে সাইফুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। তবে সাইফুল ও হুমায়ুন কোথায় আছেন, তা র‌্যাব ও পুলিশ কেউ বলতে পারছেন না।

ওই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন- র‌্যাব সদস্যরা দুই বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে যান। ‘নিখোঁজ’ দুই নেতাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দল, ব্যবসায়ী সমাজ ও দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও হরতাল করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। উনাদের মুক্তির দাবীতেএকটি হিরু-হুমায়ুন মুক্তি পরিষদ নামেএকটি ওয়েব সাইট খুলা হয়েছে।  কিন্তু এক মাসের বেশী সময়ও তাঁদের হদিস মেলেনি।

সাইফুল ইসলামের ছোট বোন সেলিনা আক্তার বলেন- ‘ঘটনার এক মাস পেরিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভাইয়ের সন্তানেরা ও স্ত্রী ঢাকায় থাকে। তারা অস্থিরতায় রয়েছে।’

এদিকে এক মাস ধরে বড় ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে হুমায়ুন কবিরের বাবা রঙ্গু মিয়া (৭৫), মা রাজিয়া খাতুন (৬২) এখন অনেকটা বাকরুদ্ধ। শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনেরা তাঁদের কাছে গেলে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। আর দুই চোখ দিয়ে পানি ফেলেন। হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার বলেন- ‘ছোট মেয়ে মাইশা বারবার জানতে চায় তার বাবা কোথায় গেছেন এত দিন হলো এখনো আসছে না কেন সে তার বাবার জন্য ভীষণ কান্না করে। মেয়ের এসব প্রশ্ন এবং কান্না দেখে নিজেকে সামলাতে পারছি না। এখন আল্লাহই আমাদের একমাত্র ভরসা।’

হুমায়ুন কবিরের একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার কবির বলেন- ‘র‌্যাব তাঁকে আটক করেছে। কিন্তু এখন আইন শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী আমার বাবার কোনো সন্ধান দিতে পারছে না। আমি প্রশাসনের কাছে বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছি।’

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘দুই নেতার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ১ ডিসেম্বর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এর বাইরে আমরা আর কিছু বলতে পারছি না।’

এদিকে লাকসামের বিশিষ্ট ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়সারা জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারছে না নিখোঁজ দু’ বিশিষ্ট পরিবারের স্বজন, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ লাকসামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

তাদের সন্ধানের দাবিতে লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটে লাগাতার হরতাল, প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবরে স্মারকলিপি, থানায় ডায়েরী, প্রতিবাদ সভা, মসজিদে দোয়া, মন্দিরে-গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এদিকে লাকসামের দু’ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন মামলা কিংবা গ্রেফতারি পরওয়ানা না থাকলেও তাদের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের মানুষ বিুব্ধ। তাদের মতে- সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ লাকসামের বিশিষ্ট ব্যক্তি। রাজনীতির বাইরে সামাজিক পরিমন্ডলে তাদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। তারা শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা রাখার কারণে বিগত এক যুগ লাকসামে বড় ধরনের কেতান অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারা গণমানুষের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন।

জনতার নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ায় লাকসামের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে দেখা দিয়েছে নতুন সমীকরণ। কারো কারো মতে- হিরু-হুমায়ুনকে শক্তিশালী প্রতিপ ভেবে কোন স্বার্থান্বেষী মহল এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। আর যদি তাই হয় তাহলে ওই মহলটির মুখোশ উম্মোচিত হবে খুব সহজেই। আর সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ যতদিন নিখোঁজ থাকবেন ততদিন তারা জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করবেন।

লাকসামের এ দু’ বিশিষ্ট ব্যক্তি নিখোঁজের পর থেকে  বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও তারা হয়েছেন আলোচিত। বিএনপি’র রাজনীতিতে তাদের অবস্থান হয়েছে অধিকতর সুদৃঢ়। খোদ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও বিষয়টি অবহিত। তাদের সন্ধান ও মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী ও নজরুল ইসলাম খান। তাদের সন্ধান দাবিতে কুমিল্লা (দ.) জেলার ৯টি আসনে হরতাল পালিত হয়েছে। সবমিলিয়ে সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। আর জনপ্রিয়তার মুকুট মাথায় নিয়ে অচিরেই তারা তাদের প্রাণপ্রিয় লাকসামবাসীর মাঝে ফিরে আসবেন এমনই প্রত্যাশা সকলের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।