ঝালকাঠির গাভারাম চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পুন:তদন্ত শুরু

স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে ঝালকাঠির গাভারামচন্দ্রপুর বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম খান লিটু ওরফে লিটু খা আবেদনের প্রেক্ষিতে ১০ ইউপি সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দ্বিতীয় দফায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে কালে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১০ ইউপি সদস্যের ৯জন স্বশরীরে উপস্থিত থাকলে ইউপি চেয়ারম্যান লিটু খা চিকিৎসার জন্য ঢাকা অবস্থান করছেন জানিয়ে অনুপস্থিত থাকেন।

অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক সার্বিক ও উপপরিচালক স্থানীয় সরকার একেএম সোহেল গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রায় দুঘন্টা ব্যাপী অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ইউপি সদস্য ও ভূক্তভুগী বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষ গ্রহন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লিটুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ ২১টি অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ১ অক্টোবর ১০ ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন।

এপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলামকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর  ধারা ৩৯ (৩) নং উপধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যানের দেয়া লিখিত জবাব সন্তোষ জনক না হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশেষ সভা আহ্বান করেন। ৬ জানুয়ারী উক্ত বিশেষ সভায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনাস্থা দানকারী ইউপি সদস্যদের কণ্ঠভোট সহ স্বাক্ষর গ্রহন করা হয়। সূত্র আরো জানায়, উক্ত তদন্ত রিপোর্ট সহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ জানুয়ারী ৫৩ নং স্মারকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পাঠান।

কিন্তু  ইউপি চেয়ারম্যান লিটু খা ইউপি সদস্যদের অভিযোগ মিথ্য ও তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে ৩ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পুন:তদন্তের আবেদন জানান। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গির কবির স্বাক্ষরিত পত্রে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কে পুন:তদন্তের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী উপপরিচালক স্থানীয় সরকার একেএম সোহেল ১এপ্রিল বেলা ১১টায়  পুন:তদন্ত শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, গাভারামচন্দ্রপুর বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম খান লিটু ওরফে লিটু খা’র বিরুদ্ধে ২০১১-১২ অর্থ বছরের বনায়নের গাছ বিক্রির টাকা, কাবিখার ৬ মে:টন গম এবং এলজিএসপি প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে মহাসেন ঘূর্নিঝড় প্রকল্পের ৭শ কেজি চাল ও নগদ টাকা ভূয়া মাষ্টার রোলের মাধ্যমে আত্মসাৎ, পাম্প হাউজের ইউনিয়ন পরিষদের বকেয়া ট্যাক্স বাবদ প্রায় ৪ লাখ টাকা চেয়ারম্যানের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যয় করা, ভিজিডি খাদ্যশষ্য বিতরনে দূর্নীতি, মৃত সনদের বিনিময়ে অর্থ আদায়, ইউপি ভবনে কৃষি ব্যাংক ও এনজিওর আদায়কৃত ভাড়ার কয়েক লাখ টাকা পরিষদের তহবিলে জমা না করে নিজের কাজে খরচ করা, ২০১৩ সনে ইউপি পুকুরের অর্ধলক্ষ্যাধিক টাকার মাছ চুরি, সরকারি বিধিমালা ভঙ্গ করে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন, দু’বছরে ৭ ইউপি সচিবের বদলী, বেরমহল বাজার ও ইউপি মসজিদ সহ বিভিন্ন মাদ্রাসার নামে কাজ না করে বরাদ্দকৃত টিআর আত্মসাত সহ ২১দফা অভিযোগ তুলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে ১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ ১০ ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করে ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।